খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৭ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারল্য সংকটে ভুগছে।
এর প্রভাবে ওই ব্যাংকগুলোর প্রায় ৩০০ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চরম সমস্যায় পড়েছে। রপ্তানি আয় দেশে এলেও সময়মতো গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এমনকি নতুন ঋণপত্রও (এলসি) খুলতে ব্যর্থ হচ্ছে তারা। ফলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে অনেক কারখানায়।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেতন–ভাতা দিতে না পারায় শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলো হলো, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার, আর বাকি চারটির নিয়ন্ত্রণে ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, পরিচালক ফাহিমা আক্তারসহ কয়েকজন পোশাকশিল্প উদ্যোক্তা।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দুর্বল ব্যাংকের সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে অনেক কারখানা রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হবে এবং শ্রমিকেরা কর্মসংস্থান হারাবেন।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাস দিয়ে জানান, সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সরকারের আমলে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারছেন না, ঋণ কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যক্তি আমানতকারীদের মধ্যে যাঁদের জমা কম, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করবে ব্যাংকগুলো।
খবরওয়ালা/আশ