খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
লক্ষ্মীপুরের যুবক মো. সুমন (৩৫) ওমানে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর পর দেশে ফিরেছেন। বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের অ্যাম্বুল্যান্সে করে তিনি লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান।
এসময় নোয়াখালী মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন সাপোর্ট সেন্টারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় আট মাস ধরে সুমনের কোনো খোঁজ ছিল না। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে সুমন দেশে ফেরেন। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট ছিল না। বিমানবন্দরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে পাওয়া গেলে এভিয়েশন সিকিউরিটি ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সুমনের ছবি ছড়িয়ে দিলে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ডেপুটি ডিরেক্টর শরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে তাকে বড় ভাই মো. মামুনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সুমনের বড় ভাই মো. মামুন বলেন, সুমন আমাকে চিনতে পারলেও তাদের আরেক ভাই মিজানকে চিনতে পারেনি। তার ধারণা, সুমন ওমানে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সুমনের মা নাজমুন নাহার বলেন, “ছেলে বাড়িতে ফিরেছে, এতেই আমি খুশি। দীর্ঘ ১২ বছর পর তাকে দেখতে পেয়েছি, এর চেয়ে শান্তি আর কিছু হতে পারে না।” তিনি ছেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
সুমনের বাবা হাফিজ উল্যাহ জানান, প্রায় ১২ বছর আগে সুমন ওমানে যায়। সেখানে ব্যবসা করে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সম্ভবত সেখান থেকেই তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি আরও বলেন, ওমানে যাওয়ার পর ১২ বছরের মধ্যে সুমন একবারও বাড়িতে আসেনি।
ব্র্যাকের নোয়াখালী এমআরএসসি সেক্টর স্পেশালিস্ট নাহিদ জুলফিকার জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রায়ই অনেক প্রবাসী দেশে ফেরেন এবং তাদের স্বজনদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। গত আট বছরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ১৪৮ জনকে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন