খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ এখন প্রায়ই হয় না। বর্তমানে দুই প্রতিবেশীর মুখোমুখি হওয়া সাধারণত শুধু আইসিসি ও এসিসি টুর্নামেন্টেই ঘটে। তুলনামূলকভাবে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে বেশি ম্যাচ খেলে। আর এই দুই দেশ যখন মাঠে নামে, সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
আজ শারজাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান সমর্থকদের শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সমর্থকদের সম্পর্ক ভালো নয়। ২০২২ সালে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানকে ১ উইকেটে হারিয়েছিল পাকিস্তান, এবং সেই ম্যাচের পর গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আফগান সমর্থকরা চেয়ার দিয়ে পাকিস্তানি সমর্থকদের মারছেন। ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যমকে তৎকালীন পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা বলেছিলেন:
“সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন না। এ ধরনের পরিবেশ আপনাকে অসুস্থ করে তুলবে। আমরা আইসিসিকে লিখিতভাবে জানাব, নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরব, যা করা সম্ভব করব। কারণ, দৃশ্যগুলো ছিল বীভৎস।”
২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানরা পাকিস্তানকে হারায়। জয় উদ্যাপন করার সময় তারা গুলি ছুঁড়ে এবং আতশবাজি ফাটায়। এর আগে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে গন্ডগোল হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে রশিদ খান বলেন:
“যাঁরা স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে আসেন, তাঁদের জন্য আমার বার্তা হলো—ক্রিকেট একতা তৈরি করে। এটি মানুষ ও জাতিকে একত্র করে। শান্তির বার্তা দেয়। এই খেলা শুধু আনন্দের জন্য। আমরা এই খেলা খেলি নিজেদের আনন্দের জন্য এবং দর্শক ও সমর্থকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য। এটি শুধুই একটা ক্রিকেট ম্যাচ। আমি সবাইকে বলছি মাঠে আসুন, আনন্দ করুন, নিজের দলকে সমর্থন করুন আর খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করুন।”
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কও ভালো নয়। তাই শারজা স্টেডিয়ামে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামে দুই দেশের সমর্থকদের জন্য আলাদা বসার জায়গা রাখা হয়েছে এবং সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
২০২৩ সালের দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও সমর্থকদের আলাদা বসার ব্যবস্থা ছিল।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৯টায় মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
খবরওয়ালা/শরিফ