খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নাটোরের বড়াইগ্রামে এক প্রবাসীর বাসায় ঢুকে ‘মব’ তৈরি করে ৩ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।
ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকায়। তবে বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা হওয়ার পর প্রকাশ্যে আসে।
পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মোট ১১ জনকে আসামি করে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন: রনি হোসেন (২৯), সুমাইয়া বেগম (২৪), বেলাল হোসেন (২৮), ইকবাল হোসেন (২৮), কামরুল ইসলাম (২৮)
তাদের সবাই বনপাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা। মামলার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করলেও তাদের কোনো পদ নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার কারণে তিনি প্রবাসীর স্ত্রী হিসেবে পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির কয়েকজন কর্মী জোর করে তাঁর বাসায় প্রবেশ করেন। তারা ওই নারীর এক আত্মীয়কে বেঁধে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন এবং পরে দুজনকে একসঙ্গে বসিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
এরপর অভিযুক্তরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি তিন ভরি স্বর্ণালংকার শহরের একটি জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রেখে ৩ লাখ টাকা দেন। বাকি ৭ লাখ টাকার জন্য তিন দিনের মধ্যে দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে অভিযুক্তরা চলে যান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানান। ইউএনও তাঁকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর পরামর্শ অনুযায়ী বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “কয়েকজন যুবক রীতিমতো ‘মব’ তৈরি করে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে আমি গয়না বন্ধক রেখে ৩ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হই। আরও ৭ লাখ টাকা চাইলে আমি ইউএনও ও পুলিশের সঙ্গে বিষয়টি জানাই।”
বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, “বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নিলে আমরা সহযোগিতা করব। অভিযুক্তরা নিজেদের বিএনপির কর্মী পরিচয় দিলেও তাঁদের কোনো পদ নেই।”
বড়াইগ্রাম থানার ওসি সারোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চাঁদা আদায়ের জন্যই পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ভুক্তভোগী নারীর মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।”
খবরওয়ালা/শরিফ