খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর মাসদার আলী (৫০) ট্রাক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েছেন। এখন এক পায়ে ভর করে বাজারে ঝাড়ু দিয়ে মাস শেষে মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা আয় করেন তিনি। আগে টিসিবির কার্ড থাকায় ন্যায্যমূল্যে কিছু খাদ্যসামগ্রী পেতেন। তাতে সংসারে কিছুটা স্বস্তি আসত। কিন্তু প্রায় ৯ মাস আগে পুরোনো কার্ড জমা নেওয়ার পর নতুন তালিকায় নাম ওঠেনি মাসদারের। ফলে নতুন কার্ডও হাতে পাননি তিনি।
মাসদারের বাড়ি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রায় ১০ মাস আগে ওই ওয়ার্ডে টিসিবির কার্ড জমা নেওয়ার পর থেকে পণ্য বিতরণ বন্ধ রয়েছে। পরে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি করে নতুন তালিকা তৈরি হয়। কিন্তু সেই তালিকায় বাদ পড়েছেন মাসদারের মতো বহু দরিদ্র, দিনমজুর ও প্রতিবন্ধী মানুষ।
মাসদারের আক্ষেপ, ‘আমি তো প্রতিবন্ধী মানুষ, সবাই সাহায্য করে। কিন্তু টিসিবির তালিকা থেকে আমাকে বাদ দেওয়া হবে, তা ভাবিনি। ১০ মাস ধরে কেউ কোনো পণ্যও পায়নি।’
একই হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন রংমিস্ত্রি বৃদ্ধ আজাদ আলী (৬০) ও বিধবা নিলুফা বিবি (৬৫)। নিলুফার অভিযোগ, গরিব-দুস্থদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় সচ্ছলদের কার্ড দেওয়া হয়েছে।
নতুন তালিকা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনের সিইও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে অনিয়মে কার্ড বিতরণ হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সালমগীর হোসেন বলেন, ‘অনেক গরিব, বিধবা ও প্রতিবন্ধী বাদ পড়েছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। যোগ্যরাই কার্ড পাবেন—এই দাবি জানাই।’
সূত্র জানায়, আওয়ামী সরকার পতনের পর স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির নেতারা কার্ড বাতিলের দাবি তোলেন। পরে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন হয়। তাতে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের রাখা হলেও নতুন তালিকা নিয়েই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা অভিযোগ করেন, ‘কিছু নেতা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার যোগসাজশে পুরো তালিকাই স্বজনপ্রীতিতে ভরা। প্রকৃত গরিবরা বাদ, সচ্ছলরা কার্ড পেয়েছেন।’
কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান সেন্টু অবশ্য জানান, আড়াই হাজার কার্ডের মধ্যে অল্প কিছু দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ আসায় বিতরণ বন্ধ রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, ‘প্রকৃত যোগ্যরা কার্ড পাবেন, অযোগ্যরা বাদ যাবেন।’
তবে কমিটির আহ্বায়ক তাজ উদ্দিন সেন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ঠিকমতো কাজই করতে দেওয়া হচ্ছে না। আগের লোকজনই যদি থাকে, তাহলে কমিটির দরকার কী?’
রাসিকের ওয়ার্ড কার্যালয়ের সচিব শামসুল ইসলাম জানান, অভিযোগ তদন্তে বিতরণ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই প্রকৃত গরিব ও দুস্থ মানুষই কার্ড পান।’
খবরওয়ালা/এমএজেড