খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে জাপানি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজটি ৩৩ বছর আগে নদীতে ডুবে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ১৯৯২ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম থেকে বৈদ্যুতিক মালামাল নিয়ে এমবি মোস্তাবি নামে জাহাজটি খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে মেহেন্দিগঞ্জের আলীমাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মিঠুয়া এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজটি ডুবে যায়। তৎকালীন সরকার কিছু সরকারি মালামাল উদ্ধার করলেও পুরো জাহাজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রায় দুই যুগ আগে নদী থেকে উঁচু হওয়া চর মিঠুয়া গ্রামে ফসল আবাদি জমি ও বসতি গড়ে ওঠে। এর আগে এই চরসহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অংশ ছিল তেঁতুলিয়া নদীর অংশ। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় এ রুটে বড় বড় জাহাজ চলাচল করত।
উদ্ধার কাজের সঙ্গে থাকা আব্দুল মন্নান বলেন, “আমি ১৯৮৮ সাল থেকে কাজ করি। মোংলা ও চট্টগ্রাম পোর্টে কাজ করেছি। সবাই অপারগ হয়ে আমাকে এই জাহাজ উদ্ধার করার জন্য ডেকেছে। অনেকে চেষ্টা করেও সক্ষম হয়নি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা সফল হয়েছি। উদ্ধার করা জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ১৪ ফুট এবং উচ্চতা ১৭ ফুট। পাঁচ একর জমি খনন করে ৭০ হাত মাটির নিচ থেকে জাহাজটি তোলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উদ্ধার করা জাহাজের দামি যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে মেশিন। বর্তমান বাজারে এমন মেশিন নেই বললেই চলে। থাকলেও নতুন মেশিনের মূল্য আনুমানিক ১২-১৫ কোটি টাকা, আর বিকল মেশিনটি ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা যাবে ২০-২৫ লাখ টাকায়।”
ঠিকাদার ইউসুফ মিয়া বলেন, “বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ডুবে যাওয়া জাহাজের অবস্থান ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করে। টেন্ডার আহ্বান করলে বিশ লাখ টাকায় মেসার্স অগ্রণী ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট এই লাইসেন্স পায়। খুলনার ঠিকাদার আনসার উদ্দিন মিয়া থেকে আমি সাব ডাক নিই। এক যুগের চেষ্টায় আমরা জাহাজ উদ্ধার করতে সক্ষম হই। ২০১২ সালে উদ্ধার কাজ শুরু করি।”
তিনি জানান, “৫ একর জমি খনন করে জাহাজ উত্তোলনের জন্য ৩টি শক্তিশালী বিকেবার্স, বিশেষ ধরনের ক্রেন, ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজের গুদাম সিল করে পানি পাম্পের মাধ্যমে তোলা হয়েছে। উদ্ধার পদ্ধতি নির্ভর করে স্থান, পানি গভীরতা এবং জাহাজের আকারের ওপর।”
আব্দুল মন্নান আরও বলেন, “আগের তিনটি দল লাখ লাখ টাকা খরচ করে ব্যর্থ হয়েছে। তারা কিছু অংশ উদ্ধার করলেও লাভ হয়নি। প্রথমে তিন গ্রুপ ব্যর্থ হলেও সর্বশেষ আমরা সফল হই।”
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর রহমান জানান, “যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে জাহাজটি উত্তোলন করা হয়েছে। অনেক আগেই বিআইডব্লিউটিএ টেন্ডার আহ্বান করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেই টেন্ডার লাভ করেন।”
খবরওয়ালা/শরিফ