খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন,“আমরা ভারত ও রাশিয়াকে চীনের গভীর অন্ধকারে হারিয়েছি।”
ব্যঙ্গ করে তিনি আরও লিখেছেন,“তাদের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করি!”সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন তিন দেশের নেতার ছবি। খবর এনডিটিভির।
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কো ও নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা বাড়ার বিষয়টি ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। এ সপ্তাহের শুরুতে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একসঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জ্বালানি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে চীনের প্রভাবের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে আসছে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৯ সালের ‘হাউডি মোদি’ সমাবেশে অংশ নেন এবং জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মিলে ‘কোয়াড’ জোটকে সক্রিয় করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ভারতের রাশিয়া নির্ভর জ্বালানি আমদানির সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়েছে।
এসসিও সম্মেলন ছিল সাত বছরের মধ্যে মোদির প্রথম চীন সফর। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্ক টানটান থাকলেও মোদি শি ও পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন।
এদিকে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ এবং রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে একতরফা সুবিধা নিচ্ছে এবং রাশিয়ার সস্তা তেল কিনে মস্কোর যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এর জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করেনি, অথচ তারাও রাশিয়ার বড় জ্বালানি আমদানিকারক।
খবরওয়ালা/আশ