খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজশাহী নগরীর একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবকেরা। এর আগে তাঁরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ উঠেছে, নগরীর কাদিরগঞ্জ শহীদ নজমুল হক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাবুব আলম সুযোগ পেলেই শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর সিঁড়িতে একা পেয়ে তিনি এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।
ঘটনার পর থেকে অভিভাবকদের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল রবিবার তাঁরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ তাঁরা বিক্ষোভে নামেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ অভিযুক্ত শিক্ষককে স্কুলে না আসার জন্য বলেন বলে অভিভাবকেরা দাবি করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক শাহাবুব আলম নানা অজুহাতে ছাত্রীদের গায়ে হাত দেন। কখনো কখনো শ্লীলতাহানিও করেন। সবশেষ গত মঙ্গলবার তিনি চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে এমনটি করেছেন। ভয়ে মেয়েটি এখন স্কুলে আসছে না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাবুব আলম। তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির কথা বলা হচ্ছে। এটা কী করে সম্ভব? আমি আসলে এ রকম না। এটা স্কুলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আজ স্কুলে এ রকম ঘটনার কারণে প্রধান শিক্ষক আমাকে যেতে নিষেধ করেন। তাই আমি যাইনি। এখন তদন্ত হবে, আমি ছুটি নেব।
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গতকাল অভিভাবকেরা আমার কাছে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন যে—শাহাবুব আলম শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেন, মারধর করেন। তবে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে ২ সেপ্টেম্বর কোনো শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির কথা লেখা নেই।
তিনি আরও জানান, স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক)। তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অভিভাবকদেরও সে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ