খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীতে একটি অবৈধ সার উৎপাদন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিপুল পরিমাণ ভেজাল কীটনাশক, মাছের খাদ্য এবং সার বাজেয়াপ্ত করেছে। ভেজাল পণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় কারখানাটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার মালিক সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর কারখানার ভেতর থেকে প্লান গ্রোথ রেগুলেটর হরমোন (পিজিআর), ভেজাল মাছের খাদ্য, ওফসন, প্লান কটন, ফিস জেল, জিও এসটার, সালফার, ওজন বাড়ানোর জন্য বালি, টিএসপিতে মেশানো ইটের গুঁড়াসহ বিপুল পরিমাণ নকল রাসায়নিক এবং কৃষি ও মৎস্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মালিককে জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত পণ্যগুলো বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক গৌরব দাশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন মোল্যা জানান, রকিবুল ইসলাম বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভেজাল সার, প্রাণী ও মাছের খাদ্য উৎপাদন করে আসছিলেন। এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, কৃত্রিম ও ভেজাল উপাদান দিয়ে তৈরি এসব পণ্য মানুষ, প্রাণী ও মাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এমন পণ্য উৎপাদন ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়ায়। তিনি জানান, জব্দকৃত মালামাল বিসিক শিল্পনগরীতে সংরক্ষণ করা আছে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ধ্বংস করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইনের অধীনে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন