খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
টিভি নেটওয়ার্ক এবিসির উপস্থাপক জিমি কিমেলের শো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কিছু টিভি নেটওয়ার্কের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিমেলের মন্তব্য সমালোচিত হওয়ার পর ডিজনির মালিকানাধীন এবিসি বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কমেডিয়ান কিমেলের অনুষ্ঠান জিমি কিমেল লাইভ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সম্প্রচারে কিমেল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কার্কের সন্দেহভাজন হত্যাকারী ‘মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) রিপাবলিকান’ হতে পারেন। তবে ইউটাহ কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন বন্দুকধারী টাইলার রবিনসন ‘বামপন্থি মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিলেন।
কিমেলের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এরপরই এবিসি অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়, যা বিবিসি প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কোথাও পড়েছি, টিভি নেটওয়ার্কগুলোর ৯৭ শতাংশ আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করে। তারপরও আমি গত নির্বাচনে সহজেই জয়ী হয়েছি। তারা কেবল নেতিবাচক প্রচারণা চালায়। অথচ লাইসেন্স পাচ্ছে। আমার মনে হয়, তাদের লাইসেন্স হয়তো বাতিল করা উচিত।
সোমবারের অনুষ্ঠানে ৫৭ বছর বয়সী কিমেল আরও বলেছিলেন, কার্ক হত্যাকাণ্ড থেকে ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ নিতে মাগা সমর্থকরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। এছাড়া ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াকে তিনি ‘গোল্ডফিশের মৃত্যুতে চার বছরের শিশুর শোকের মতো’ বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন। তবে ঘটনার পর কিমেল ইনস্টাগ্রামে কার্ক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এফসিসি চেয়ারম্যান ব্র্যান্ডন কার ফক্স নিউজকে বলেন, কিমেলের অনুষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার মধ্যেই বিষয়টির সমাপ্তি নয়। আমরা সম্প্রচারমাধ্যমকে জনস্বার্থে দায়বদ্ধ রাখব। আর কেউ যদি এই সমাধান পছন্দ না করে, তারা চাইলে লাইসেন্স এফসিসিকে ফেরত দিতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বাকস্বাধীনতা রক্ষায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ভিত্তিতে কোনো লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ দেয় না। তবে এফসিসি বড় নেটওয়ার্ক ও তাদের সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে; কেবল চ্যানেল বা পডকাস্ট, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় টিভি স্টেশন নেক্সটা মিডিয়া ঘোষণা করেছে, তারা নিকট ভবিষ্যতে কিমেলের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে না। তাদের মতে, কার্ককে নিয়ে কিমেলের মন্তব্য ‘অপমানজনক এবং জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার জন্য ক্ষতিকর’। একই দিনে এবিসিও অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়।
নেক্সটার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এফসিসি চেয়ারম্যান ব্র্যান্ডন কার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্য সম্প্রচারমাধ্যমও একই পথে হাঁটবে। উল্লেখ্য, নেক্সটা সম্প্রতি ৬২০ কোটি ডলারের একীভূতকরণ চুক্তির অনুমোদন চাইছে এফসিসির কাছে।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠান বন্ধের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বহু লেখক, অভিনেতা এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তীব্র সমালোচনা করেছেন। ওবামা বলেন, এই ঘটনা মতের অমিলে কাউকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতিকে বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে গেছে।
সিবিএসের উপস্থাপক স্টিফেন কোলবারও কিমেলের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেন, এটা নির্লজ্জ সেন্সরশিপ। এক স্বৈরাচারের সঙ্গে এক ইঞ্চিও ছাড় দেওয়া যায় না। তবে জুলাইয়ে সিবিএস জানিয়েছিল, আগামী সিজনে কোলবারের শো নবায়ন করা হবে না।
সবাই কিমেলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। বার্স্টুল স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ডেভ পোর্টন বলেন, যে কেউ অসভ্য ও অপমানজনক মন্তব্য করে শাস্তি পায়, তা ক্যান্সেল কালচার নয়, বরং তার কাজের স্বাভাবিক ফল।
লেট-নাইট ফক্স হোস্ট গ্রেগ গাটফেল্ডও মন্তব্য করেন, কিমেল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং কার্ক হত্যার দায় তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপর চাপিয়েছেন।
খবরওয়ালা/শরিফ