খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
‘রহস্যমানব’ খ্যাত এনায়েত করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ঢাকায় তার অপরাধের একটি জাল ছিল। তার যোগাযোগ ছিল আমলা থেকে শুরু করে পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এক সচিবকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থেকে বাঁচাতে দেড়শ কোটি টাকার চুক্তি করেছিলেন এনায়েত।
গ্রেপ্তার এনায়েত করিম চৌধুরীকে গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে, নিজেকে সিআইএ এজেন্ট দাবি করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রহস্যময় মার্কিন নাগরিকের একজন বেতনভুক্ত সহযোগী গোলাম মোস্তফা আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে দেখা গেছে, দুজন উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সঙ্গে তাদের কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এছাড়া অন্তত দেড়শ কোটি টাকার বিনিময়ে একজন প্রভাবশালী সচিবকে দুদকের মামলা থেকে বাঁচাতে এনায়েতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। তার সঙ্গে বহু সরকারি কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্যও জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। রিমান্ডে থাকা কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ‘এনায়েতের সঙ্গে একজন প্রভাবশালী আমলার গভীর যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এই আমলার নামে দুদকের বেশ কিছু মামলা আছে। সেসব মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে নানা সময় তাদের কথাবার্তা, যোগাযোগ ও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলা থেকে বাঁচানো বা রক্ষা করার কথা বলে দেড়শ কোটি টাকার চুক্তি হয় তার সঙ্গে। তবে টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ এখনো হাতে পাওয়া যায়নি।’
এনায়েতের সহযোগী মোস্তফা আজাদ একাত্তর টিভিতে জিএম অপারেশন হিসাবে কাজ করতেন। ৫ আগস্টের পর তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আক্তার মোর্শেদ বলেন, ‘তাকে ২ লাখ টাকা বেতনে নিজের সহকারী হিসাবে রেখেছিলেন এনায়েত করিম। মোস্তফার মাধ্যমে এনায়েত তার টাকা বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন। গুলশানে যে বাড়িতে এনায়েতের থাকার কথা, সেই বাড়িতে থাকতেন মোস্তফা আজাদ। এই বাড়ি ভাড়ার জন্যও মাসে ২ লাখ টাকা দিতেন এনায়েত।’
রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়ায় গাড়িতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন এনায়েত। বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তাকে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড শেষে তাকে আবার আদালতে তোলা হয়। এরপর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আক্তার মোর্শেদ-এর আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হক রিমান্ডের আদেশ দেন।
ওইদিন এনায়েতের সঙ্গে আদালতে তোলা হয় বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া গোলাম মোস্তফা আজাদকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
খবরওয়ালা/শরিফ