খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সত্তর দশককে বলা হয় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চার স্বর্ণযুগ। আর এই সময়ে যে কয়েকজন ভিন্নধর্মী সাহিত্যিকের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, গবেষক, নিবন্ধকার, সাংবাদিক ও সম্পাদক আরেফিন বাদল অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করছেন।
আরেফিন বাদল শুধু একজন সাহিত্যিক নন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা; কালজয়ী, অসাম্প্রদায়িক, বাঙালি চেতনার অকৃত্রিম ধারক ও বাহক।
১৯৪৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাকুটিয়া পাবলিক স্কুল ও কলেজে। পরে ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ষাটের দশকে লেখালেখি শুরু করলেও সত্তর দশকেই তাঁর পূর্ণ বিকাশ ঘটে। তিনি লিখেছেন কবিতা, নাটক, উপন্যাস, গবেষণা ও সম্পাদনার গ্রন্থ। চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদনায় তাঁর অবদান অনন্য।
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে জীবনের হতাশা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, শ্রেণীসংগ্রাম এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে সাহিত্যে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তিনি ছিলেন দেশের প্রথম রঙিন বিনোদন পত্রিকা পাক্ষিক তারকালোক-এর প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি সাপ্তাহিক আগামী, সাপ্তাহিক বিশ্ব বাঙালি, মাসিক কিশোর তারকালোক প্রভৃতি পত্রিকারও প্রতিষ্ঠাতা, প্রকাশক ও সম্পাদক। একইসাথে তিনি ছিলেন বিটিভির প্রথম প্যাকেজ নাটক নির্মাতা।
আরেফিন বাদল সাম্যবাদী আদর্শে বিশ্বাসী, স্বপ্ন দেখেন এক শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজের। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং এখনো লিখে চলেছেন সমানতালে।
‘এই যুদ্ধ সেই যুদ্ধ’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ, একুশে বইমেলা ২০২৩)
‘সারার ব্রীজ’ (রাজনৈতিক উপন্যাস, ইতোমধ্যেই পাঠকসমাজে ব্যাপক সমাদৃত)
আজকের এই বিশেষ দিনে— কথাসাহিত্যিক আরেফিন বাদলকে জানাই শুভ জন্মদিনের আন্তরিক অভিনন্দন ও অফুরন্ত শুভকামনা।
খবরওয়ালা/এমএজেড