খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বরগুনার তালতলী উপজেলায় সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের পেট কেটে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে তালতলী ইসলামী হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছকিনা এলাকার বাসিন্দা মো. হৃদয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সীমা আক্তার প্রসব ব্যথা নিয়ে বুধবার রাতে তালতলী ইসলামী হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন।
পরে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করেন। দীর্ঘ সময় পর নবজাতককে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হলে তারা দেখতে পান শিশুটির পেটে কাটা দাগ রয়েছে। কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসময় মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে ডা. নুসরাত জাহান ও সংশ্লিষ্ট নার্স ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান।
প্রসূতির মা রেবা বেগম বলেন, ‘সিজারিয়ান অপারেশনের পর শিশুটির গায়ে কাপড় পেঁচিয়ে আমার হাতে তুলে দেয়। পরে শিশুটির শরীরে রক্ত দেখতে পাই। এ সময় গায়ের কাপড় খুললে পেটে ছুরির আঘাত দেখা যায়। বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে জানালে চাইলে ডা. নুসরাত জাহান ও নার্সসহ ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যায়।’
তবে ক্লিনিকের মালিক মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, ‘শিশুটি শ্বাসকষ্টের কারণে মারা গেছে। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।’
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় ৩ ঘণ্টা পর। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।’
‘এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে, তাদের লাইসেন্স কমপ্লিট নেই। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের সহায়তায় হাসপাতালটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,‘ বলেন তিনি।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/শরিফ