জেলা প্রশাসনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন সেই দপ্তরেরই কর্মী

মাদারীপুরে জেলা প্রশাসনের দায়ের করা জালিয়াতি মামলার আসামি জেলা প্রশাসনের অধীনে কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেছেন। জাল খতিয়ান তৈরি করে খাসজমি দখলের চক্রের সদস্য হিসেবে মশিউর রহমান ওরফে মুন্না সরদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ১৭ দিন জেলহাজতেও ছিলেন তিনি। বর্তমানে তাকে ভূমি অফিসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেলেন, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের কোনো অংশগ্রহণ আছে কি না, তা নিয়েও সমালোচনা চলছে।

মুন্না সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিজে এসে দেখা করে আলোচনা করবেন। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকা এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারী হিসেবে যোগদানের বিষয়টি সত্য। তিনি জানান, ‘আমাকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি দোষী নই।’

ওই মামলার ৬ নম্বর আসামি ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, তিনি বিআইডব্লিউটিএতে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। কোনো সম্পৃক্ততা ছাড়াই তাকে মামলায় আসামি করা হয় এবং পরে চাকরি চলে যায়। ফয়েজ বলেন, মুন্না জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি পোড়ানোর মামলায়ও জেল খেটেছেন। এরপরও সরকারি চাকরি পাওয়ায় তিনি তার চাকরি ফেরত চাইছেন।

জানা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে জাল খতিয়ান তৈরি করে চক্রটি হোল্ডিং খুলে ভুয়া নামপত্তন করেছিল। পরে সেই নামপত্তনের মাধ্যমে জমির খাজনা পরিশোধ করে দলিল সৃজন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১২৪ নম্বর ছয়না মৌজার বিআরএস ৪৪৬ নম্বর দাগের ১৩ শতাংশ এবং ১৭ নম্বর দাগের ১৮ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় ধরা পড়ে। ২০২৩ সালের নভেম্বরের জালিয়াতির ঘটনায় জেলা প্রশাসন চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

ঘটমাঝি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা জেলা প্রশাসনের আদেশে ১২ নভেম্বর ছয়জনকে মূল আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করে জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যতম আসামি শহরের কলাতলা (পুরানবাজার) এলাকার সালাম সরদারের ছেলে মুন্না সরদার। গ্রেপ্তার হয়ে ১৭ দিন জেলহাজতেও ছিলেন তিনি।

মামলার প্রায় এক বছর পর জেলা প্রশাসনে কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে মুন্না সরদার আবেদন করেন। চলতি বছরের ২ মে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। ১ সেপ্টেম্বর তাকে শিবচরে বন্দরখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পদায়ন করা হয়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন আক্তার বলেন, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরওয়ালা/টিএসএন

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।