খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১০ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বগুড়ার যমুনা নদী এবং কুড়িগ্রামের কালজানী, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদী দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ভেসে আসছে হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি। এসবের মধ্যে রয়েছে কাটা গাছের অংশ, আবার কিছু গাছ শেকড়সহ উপড়ে এসেছে। নদী থেকে এসব গাছ তুলতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ গাছগুলো ‘চন্দন কাঠ’ হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করেছেন। তবে উৎস নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে—এসব গাছ কোথা থেকে ও কীভাবে ভেসে আসছে?
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি স্বাভাবিক একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। গত কয়েকদিন ধরে ভারতে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে, যার ফলে পাহাড়ি ঢলে এসব গাছ ও গুঁড়ি ভেসে আসছে। তারা বলেন, ভারতে যখন ভারী বৃষ্টি বা বন্যা হয়, তখন নদীর স্রোত বেড়ে যায়, ফলে গাছের ডালপালা ও গুঁড়ি নদীর সঙ্গে ভেসে বাংলাদেশে আসে। এসব গাছ মূলত নদীতীর বা পাহাড়ি এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় বন্যার পানিতে ভেসে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের কিছু অঞ্চলে কাঠ সংগ্রহের জন্য নিয়মিতভাবে গাছ কাটা হয় এবং অনেক সময় সেই কাঠ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে সেগুলো নদীর প্রবাহে ভেসে বাংলাদেশে পৌঁছে যায়। এছাড়া নদীর প্রবাহ ও তার পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য গাছের গুঁড়িগুলোর গতিপথ নির্ধারণ করে। ভূমি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ব্যবহারও এ ধরনের ঘটনার কারণ হতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও একই রকম দৃশ্য দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোচবিহারের তোর্সা নদীতে হাজার হাজার গাছ ও গুঁড়ি ভেসে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন দৃশ্য তারা আগে কখনও দেখেননি। প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে নদীর তীরে ভিড় করেছেন মানুষ; যার যতটা সাধ্য, দড়ি বেঁধে কাঠ তোলার চেষ্টা করছেন। কোচবিহারের বন বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টিতে কয়েক কোটি টাকার গাছ নষ্ট হয়ে নদীতে ভেসে গেছে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি থেকে মাধবডাঙা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর পাড়ে মানুষ বিভিন্ন উপায়ে কাঠ তুলছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘নদীর পানিতে যত দূর চোখ যায়, শুধু কাঠের সারি। সবাই যেভাবে পারছেন, গাছ তুলছেন। কাঠগুলো যে ভারতের দিক থেকেই এসেছে, তা নিশ্চিত।’
ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, ‘নদীতীরবর্তী শত শত নারী-পুরুষ কাঠ সংগ্রহ করছেন। এসব কাঠ আসবাবপত্র তৈরির কাজে ব্যবহার উপযোগী নয়, তবে অনেকে জ্বালানি কাঠ হিসেবে সংগ্রহ করছেন।’
পাউবোর বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, ভারতে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে এসব কাঠ ও খড় ভেসে এসেছে। প্রতিবেশী দেশের বন্যায় পাহাড়ি অঞ্চল তলিয়ে গিয়ে কাঠগুলো নদীপথে নেমে এসেছে।
বগুড়ার সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান বলেন, আসামে প্রবল বর্ষণের ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বনাঞ্চল ধসে বা বড় কাঠের গুদাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব কাঠ ভেসে এসেছে। এ ঘটনায় চোরাচালানের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই মনে হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরুজুল ইসলাম বলেন, বন্যার সময় উজান থেকে গাছের গুঁড়ি, কাঠ বা বাঁশ ভেসে আসা নতুন কিছু নয়। এগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল, চোরাচালানি নয়।
এদিকে, কেউ কেউ ভেসে আসা এসব গাছকে ‘লাল চন্দন’ কাঠ মনে করে উচ্চমূল্যে বিক্রির চেষ্টা করছেন। তবে কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম বলেন, লাল চন্দন কাঠ ভেসে আসার সম্ভাবনা নেই, এটি বিভ্রান্তি ছাড়া কিছু নয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন