অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
একসময় ছিল হাসিখুশি আর স্বচ্ছলতার দিন। কিন্তু হঠাৎই নেমে আসে অসুস্থতার অন্ধকার ছায়া, পাল্টে যায় পুরো জীবনচিত্র। রাজধানীতে দীর্ঘদিন বসবাসের পর এখন আয়েশা বেগম ও আব্দুল দাইয়ান আশ্রয় নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায়। পুরোনো এক টিনের ঘরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এই দম্পতি—দুজনই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী।
সরু গলি পেরিয়ে গেলে চোখে পড়ে জরাজীর্ণ একচালা টিনের ঘরটি। ভাঙাচোরা বাইরের দেয়াল, ভেতরে প্রায় ফাঁকা ঘর। কোণায় এলোমেলো কাপড় আর পুরোনো ভাঙা ওয়ারড্রোব—সব মিলিয়ে বোঝা যায়, এখানে অভাব আর কষ্টই নিত্যসঙ্গী।
কখনও ঢাকায় নিয়মিত আয়-রোজগার করে নিশ্চিন্তে দিন কাটাতেন এই দম্পতি। আয়েশা বেগম কাজ করতেন একটি রেস্তোরাঁয়, আর তার স্বামী আব্দুল দাইয়ান চালাতেন রিকশা। পরবর্তীতে তিনি নিজেই রিকশার মালিক হন। কিন্তু হঠাৎ ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর আবারও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন আয়েশা বেগমও—তার শরীরে ধরা পড়ে জরায়ু ক্যান্সার, সঙ্গে বিকল হয়ে যায় বাম কিডনি।
অর্থাভাবের কারণে দুজনেরই চিকিৎসা এখন বন্ধ। চিকিৎসকদের মতে, আয়েশা বেগমের ক্যান্সার বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপে, আর সুস্থ হতে হলে অন্তত ৩৫টি কেমোথেরাপি প্রয়োজন। কিন্তু প্রথম থেরাপির পর অর্থ না থাকায় চিকিৎসা থেমে যায়।
আয়েশা বেগম বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য অন্তত ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখন আমরা কর্মহীন। আমরা দুজনই অসুস্থ। ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করে, তা দিয়ে সংসারই চলে না। সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমার আকুল আবেদন—আমাদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করুন, যাতে নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাই।’
অসুস্থ আব্দুল দাইয়ানও কষ্টভরা কণ্ঠে বলেন, ‘আমি অসুস্থ হওয়ার পর স্ত্রীর অসুস্থতায় সংসার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। কেউ যদি সাহায্য করতেন, তাহলে হয়তো আবার চিকিৎসা শুরু করা যেতো।’
দম্পতির ছেলে শহীদুল ইসলাম জানান, ‘আমরা একসময় স্বচ্ছল ছিলাম। কিন্তু অসুস্থতার পর সবকিছু বদলে গেছে। ঢাকা ছেড়ে সোনারগাঁয়ে চলে এসেছি। এখন বাসা ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। সামান্য জমি বন্ধক রেখে কিছুটা চিকিৎসা করিয়েছি। এখন জমিও ফেরানোর উপায় নেই। আমি চাই না আমার মা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। সমাজের কাছে সাহায্য চাই।’
স্থানীয়দের মতে, মানবিক ও সহানুভূতিশীল মানুষরা যদি এগিয়ে আসেন, তবে আয়েশা বেগম ও আব্দুল দাইয়ান নতুন করে জীবন ফিরে পেতে পারেন। এখন তাঁদের বাঁচিয়ে রাখতে দরকার সমাজের আন্তরিক সহযোগিতা।
আব্দুল দাইয়ান ও আয়েশা বেগমের সাথে যোগাযোগের নম্বর ০১৯১২০২৪৬৯৩।
খবরওয়ালা/শরিফ