অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের আশপাশে কোনো কেক বিক্রেতা বা অস্থায়ী দোকান বসতে পারবে না—পুলিশের এমন নির্দেশনা থাকলেও ফের জমে উঠেছে কেক বিক্রির হাট। ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা রোধে গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে দোকান না বসানোর নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ।
তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করে বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই আগারগাঁওয়ে শতাধিক দোকান বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়ে এলাকা আবারও জমজমাট হয়ে উঠেছে। কেক বিক্রির এই ব্যস্ততার দৃশ্য ধারণ করতে ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আগে যেখানে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে কেক বেচাকেনা চলত, এবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও নির্বাচন কমিশন ভবনের মাঝের সড়কে চলছে কেক বিক্রি। অস্থায়ী এসব দোকানে শুধু কেক নয়, বিক্রি হচ্ছে পিঠা, ফ্রাইড রাইস, দই, পুডিং ও মুখরোচক মিষ্টান্নও।
কেক বিক্রেতা আইরিন আক্তার পিংকি জানান, তিনি নিজ বাসায় কেক তৈরি করে বিক্রির জন্য এনেছেন। দুই পাউন্ড ওজনের প্রতিটি কেক তিনি ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। আবার কেউ পিস হিসেবে কিনলে প্রতি পিস ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন।
পিংকি বলেন, ‘কয়েকদিন বন্ধ ছিল। আবার বেচাকেনা শুরু করলাম। তবে প্রশাসন আমাদের কিছু শর্ত দিয়েছে। সড়কে জটলা করা যাবে না। ময়লা ফেলা ও বিশৃঙ্খলা করা যাবে না।’
শুধু কেক নয়, ফ্রাইড রাইস ও চিকেন বিক্রিও চলছে। বিক্রেতা অন্বেষা বলেন, ‘মাঝে বিরতি দিয়ে আজকে বেচাকেনা শুরু করলাম। প্রথম দিনেই ক্রেতা মাশাল্লাহ ভালো।’
বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, কেক কেনার চেয়ে ভিডিও করতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। দোকানগুলোতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় কেক বিক্রি হচ্ছে। এক নারী উদ্যোক্তা জানান, কেকের উপকরণের ওপর দাম কিছুটা কমবেশি হয়।
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই নিজ নিজ বাসায় কেক বানিয়ে বিক্রির জন্য আগারগাঁওয়ে আসেন। বিকেলে দোকান বসিয়ে রাতের আগে বিক্রি শেষ হলে গুটিয়ে চলে যান।
পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে কেক বিক্রি চললেও এলাকা এখনো উৎসবমুখর, আর বিক্রেতারা বলছেন—‘জীবিকার টানে আবার নেমেছি কেক বিক্রিতে। শর্ত মেনে চললে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’
খবরওয়ালা/শরিফ