সোমবার, ১ই জুন ২০২৬, ১৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ই জুন ২০২৬, ১৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রধান সংবাদ

ডায়োজিনিস

নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ডায়োজিনিস
ছবি: খবরওয়ালা গ্রাফিক্স

এখন কত কী যে ঘটে। কাকে কখন কী করবে কেউ বলতে পারে না। সবাই সাবধানে চলাফেরা করে। কিন্তু ভবঘুরে কেউ তো সাবধানি হয় না। যেমন সেদিন একটা ভবঘুরে লোককে কারা ধরে এনে সেলুনে বসিয়ে চুল দাড়ি কাটিয়ে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ভালো খাবারও খাওয়ালো। লোকটাও অনেকদিন ভালো খাবার খায় নি। লোকটার চুলকাটানো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যাপারটা আশপাশের লোকজন চোখ খুলে আর মুখ বন্ধ করে উপভোগ করল। আগেও লোকটা পথে বা বাজারের অলিগলিতে হেঁটে বেড়াত, হাত পেতে টাকা চাইত, পথের ধারের চায়ের দোকান বা ভাতের দোকানে উঁকি দিয়ে খাবার চাইত। লোকে যা দিত তাই নিয়ে সে সন্তুষ্ট থাকত। ক্লান্ত হলে কোথাও ঘুমিয়ে পড়ত। যারা এমন লোক হরহামেশা দেখে আর টাকা চাইলে টাকা, খাবার চাইলে খাবার কোনো কিছু না ভেবেই দিয়ে দিতো। তার দিকে দেখার মতো করে কেউ তাকাত না। পরিচয় বা তার বয়স নিয়ে ভাবার তো প্রশ্নই ছিল না। পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তো দূরের কথা, কারো আগ্রহও ছিল না।

লোকটার বিষয়গুলো আজই প্রথম সবার সামনে এসেছে। যারা তাকে নজর এনেছে তাদেরকেও কেউ চেনে না। তাদের পরিচয় কেউ জিজ্ঞেস করে নি। তারা এলাকায় ছিল নাকি অন্য কোনো এলাকা থেকে এসেছে কেউ বুঝতে পারছে না। ভবঘুরে লোকটাকে নিয়ে যাবার কালে তাদের কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি। শুধু ঔৎসুক্য চোখে তাকিয়ে ভেবেছে, দেখা যাক কী করে। কেবল কয়েকটা শিশুকিশোর যাদের নিয়েও কারো ভাবনা নেই ওরা লোকটার সাথে সাথে গেল, যেমন বাদর যাওয়ার কালেও ওরা কিছুটা পথ সঙ্গে হেঁটে যায় আবার ফিরেও আসে। শিশুকিশোররা চিৎকার চেঁচামেচি করায় অন্যদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। লোকটাকে সেলুনে নিয়ে চুলদাড়ি কাটাতে থাকলে কেউ জানতে চায় নি, আপনারা কারা? এ লোকটার প্রতি নজর পড়ল কেন? এরপর কী করে এই ঔৎসুক্য থেকে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে। কিছু দেখতে থাকলে আরও লোক জড়ো হতে থাকে। একসময় লোকের ভিড়ে বাড়ে এবং অন্য লোকেরা দেখার সুযোগ বঞ্চিত হয়। যারা দেখার সুযোগ পায় নি তারা যেতে যেতে লোকটার গল্প বলতে থাকে। তারা গল্প শুরু করে এ কথা বলে, সামনে গিয়ে দেখ, কী কা- করছে! অথবা কী হচ্ছে! তাদের গল্প ছড়িয়ে যেতে থাকে।

চুলদাড়ি কেটে ফেলার পর লোকটার পরিচয় না বের হলেও চেহারাটা বেরিয়ে পড়ে। চমৎকার চেহারা নিয়ে একজন নিখাদ ভদ্রলোক হয়ে যান। চুলদাড়ি কাটা থেকে শুরু করে তাকে ঘিরে আরও যা যা ঘটতে থাকে সব ভিডিয়ো করা হয়ে যায়। এসব ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাস হয়ে যাওয়া লোকটাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় লোকটা বলছিল, আমাকে কেন? আমি তো কারো পাতে হাত দিই না। লোকে যা দেয় তাই খাই। পয়সা দিলে সেটা দিয়ে কিনে খাই। তোরা তো দেখতেই পাচ্ছিস, কী রকম কাপড় পরে আছি। কেন আমার শান্তি নষ্ট করতে এসেছিস, বাবারা?
নাম বল। পরিচয় দাও। 
আমি ডায়োজিনিসি। 
নামের কি ছিরি! এমন নাম আর একটাও এদেশে নেই।
থাকার কথা নয়। আমি একজন অজ্ঞাত পরিচয় লোক।
ডায়োজিনিস, চলো আমাদের সাথে।
কোথায়?

লোকটার কথা কানে তোলে নি। তারা সেলুনে নিয়ে গেল। তার পর সেলুনে নিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করলে অনেকেই দাঁড়িয়ে মজার কা- দেখল। একটা ভবঘুরেকে কী করে ভদ্র বানানো সেটা ভিডিওতে ধারণ করা হলো। কিন্তু লোকটার মুখ থেকে আর কোনো কথাই বের করা যায় নি। লোকটা আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয় নি। আর কোনো কথা না বলায়, প্রশ্নের উত্তর সন্দেহ হলো সে কোনো এক দেশের ছদ্মবেশী গুপ্তচর। নামটাও অদ্ভুত। ডায়াজেনিসিস। এমন নাম কেউ কখনো শুনে নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নাম সম্পর্কে কোনো মন্তব্য এলো না। ভদ্রলোক বানানোর পর লোকটাকে শান্ত স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। মাথায় কোনো গ-গোল আছে মনে হচ্ছে না। যারা তাকে ভদ্রলোক বানিয়ে লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তারাও ভাবতে শুরু করে এর পর কী করা যায়? 
তাদের একজন বলে, আমরা আইনের সাহায্য নিতে পারি। 
সেটা করতেই পারি। দেশে ভবঘুরে আইন আছে। সে আইনে পুলিশ তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে। পুলিশে খবর দিলে হয়। 
কিন্তু পুলিশ এসে যদি জিজ্ঞেস করে লোকটা যে ভবঘুরে আপনারা কীভাবে জানলেন? আর আপনারাই বা কারা? কোথা থেকে এসেছেন? 
আমরা বলব, আমরা সমাজ সেবক। সমাজের ভবঘুরেদের খুঁজে বের করি। তারপর তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করি। 
তাহলে পুলিশ আসুক।

ততক্ষণে লোকটাকে নিয়ে যা ঘটেছে সেসব কাণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখের বেশি ভিউ হয়ে গেছে। আর বিষয়টা ভাইরাস হয়ে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ ভ্যানও চলে এসেছে। পুলিশ এসে লোকটাকে জিজ্ঞাসাবাদ করল। কিন্তু লোকটা পুলিশের কোনো প্রশ্নেরই কোনো জবাব দিল না। এমন কী নামও বলল না। অথচ ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে লোকটাকে কথা বলতে দেখা গেছে। সে বলছিল, তোরা আমার শান্তি নষ্ট করতে এসেছিস কেন? আমি তো কাউকে কিছুই বলি না। তোরা আমার পেছনে লেগেছিস কেন? তাতে পুলিশের সন্দেহ হয়। সামাজিক যোগাযোগে মন্তব্য থেকে পুলিশ লোকটার পরিচয় আর বাসার ঠিকানাও পেয়ে যায়। যেখানে সে অনেক বছর আগে ছিল তার ছেলের সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে জানতে পারে আর এই লোক অনেক বছর যাবত ঘরছাড়া। এর কারণ কেউ বলতে পারে নি। আর ছেলের নামেও গত আগস্টে মামলা হয়েছে। তাকে সন্দেহ করার জন্য পুলিশের আর কোনো তথ্যের দরকার হয় নি। সন্দেহজনক অবস্থায় অনুসন্ধিৎসু জনতার হাতে আটক লোকটাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে আসে। আদালতের সামনেও হাজির করে। পুলিশ আদালতের অবগতিতে আনে যে লোকটা আসলে ভবঘুরে নয়, ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। গত আগস্টের খুনের মামলায় তার ছেলের নাম আছে। তাকেও মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির একজন গণ্য করার জন্য পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করলেও লোকটাকে জেলে আটক রাখার আদেশ দেন।

অতঃপর লোকটা নিরাপদ বোধ করেন। তিনি ভাবেন, যাক, উপদ্রব থেকে বাঁচা গেল তাহলে। আর হয়ত এরকম লোকজনের কবলে পড়তে হবে না। থাকা খাওয়ার একটা বন্দোবস্ত হয়ে যাবে।

খবরওয়ালা/এমএজেড