তরমুজ বাণিজ্যে ‘চাঁদামুক্ত’ রাখতে বিএনপি নেতার মতবিনিময়
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
বাগেরহাটের কচুয়ায় তরমুজ বাণিজ্যে চাঁদামুক্ত নিশ্চিত করতে চাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খান মনিরুল ইসলাম। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার চরশোনাকুর গ্রামে তরমুজ ক্ষেত ঘুরে তিনি এ সভা করেন।
কৃষকরা জানান, প্রতি মৌসুমে তরমুজ বিক্রিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অনেক টাকার লেনদেন হয়। এজন্য কিছু অসাধু লোক বিভিন্ন সময় চাঁদা নিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এখনও চাঁদাবাজি শুরু হয়নি।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তরমুজ চাষ, বিক্রি ও পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতো চরশোনাকুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে, নতুন বাংলাদেশে আমরা চাঁদামুক্ত ব্যবসা নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য মাঠে এসে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউ যদি কোনো অনৈতিক সুবিধা চায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় নেতাদের জানাতে অনুরোধ করেছি। আশা করি এ এলাকায় চাঁদামুক্ত তরমুজ ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত হবে।
বিএনপি নেতাদের এমন উদ্যোগে খুশি স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক ও তরমুজ ব্যবসায়ীরা। চরশোনাকুর গ্রামের কৃষক আজিজুল বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের এই মাঠে তরমুজ উৎপাদন হয়। কিন্তু বিগত দিনে দেখা গেছে, চাষি, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের জিম্মি করে চাঁদা নেওয়া হতো। তবে এবার এখন পর্যন্ত কারও কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। বিএনপির নেতারা আসায় আরও ভালো হয়েছে। কেউ চাঁদা চাইলে জানাতে পারব।
রহিম নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘বিএনপির নেতারা মাঠে এসে আমাদের সবার সাথে কথা বলেছে। কাউকে কোনো টাকা দিতে নিষেধ করেছে, কম দামে খেত বিক্রিতে জোরজবরদস্তি করলে জানাতে বলেছে। এতে আর চাঁদাবাজরা সাহস পাবে না। পাশাপাশি কৃষকরা উপযুক্ত দাম পাবে।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে প্রায় ২০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ৬৮ শতকের প্রতি বিঘায় গড়ে এক হাজার থেকে ১২শ’ পিস পর্যন্ত তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। প্রতিক বিঘা জমির তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
খবরওয়ালা/এমবি