খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
সহবাস, স্বপ্নদোষ, ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত ও নারীদের হায়েজ-নেফাস (ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) শেষে ফরজ গোসল করা আবশ্যক। এসব কারণে শরীর অপবিত্র হলে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করা উচিত। কারণ আল্লাহ পবিত্রতা ভালোবাসেন। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’(সুরা তাওবা : ১০৮)
তবে অনেকেই ফরজ গোসল ফরজ হওয়ার পরও তা করতে বিলম্ব করেন। কেউ কেউ বলেন, গোসল বিলম্বিত করলে গোনাহ হয় বা মাটিতে হাঁটলে মাটি অভিশাপ দেয়। কেউ বলেন, নারীরা দেরিতে গোসল করলে সংসারে অকল্যাণ আসে। প্রশ্ন হলো— এসব কথার কি শরিয়তে কোনো ভিত্তি আছে?
ইসলামি স্কলারদের মতামত
প্রখ্যাত আলেম শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, গোসল ফরজ হলে যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা উচিত। কারণ তখন একজন ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় থাকেন, যা আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকার অবস্থা। তবে যদি কোনো কারণে কিছুটা দেরি হয়, তাহলে অন্তত অজু করে নেওয়া উত্তম। যদিও অজু না করলেও বড় গোনাহ হবে না, তবে এটি সুন্নাহর খেলাফ।
তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা দেরিতে গোসল করলে সংসারে অকল্যাণ হয়’— এ ধরনের কথা ভিত্তিহীন ও কুসংস্কারমূলক। এটি নারীদের প্রতি অন্যায়। ইসলামে এ ধরনের চিন্তাধারার কোনো স্থান নেই।
মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ, জামিয়া ইকরার ফাজিল বলেন, ‘ফরজ গোসল এতটাই দেরিতে করা উচিত নয় যে, নামাজ কাজা হয়ে যায়। নামাজ কাজা হওয়া কবিরা গোনাহ। তাই সময়মতো গোসল করে নামাজ আদায় করা অবশ্যই জরুরি। তবে গোসল কিছুটা দেরি হলে গোনাহ হবে না, যদি তাতে ফরজ কোনো কাজ— বিশেষ করে নামাজ— ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাদিসে এসেছে- রাসুল (সা.) কখনো কখনো অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় ঘুমিয়ে যেতেন, এমনকি পানি স্পর্শও করতেন না।’(তিরমিজি : ১১৮)