খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৩ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও খাতা মূল্যায়নের মতো সংবেদনশীল তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ফেসবুকসহ সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বুধবার (২২ অক্টোবর) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ এবং সদ্য গৃহীত ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর বিধান অনুসারে অনলাইন আচরণবিধি লঙ্ঘন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সামাজিকমাধ্যমে এমন কোনো তথ্য, ছবি বা মন্তব্য প্রকাশ করতে পারবেন না যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে, প্রশাসনিক গোপনীয়তা ভঙ্গ করে কিংবা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি মিডটার্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এবং এর আগে এইচএসসি খাতা মূল্যায়নের ভিডিও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো প্রশাসনের নজরে আসে। উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মাউশির নির্দেশনায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউব অ্যাকাউন্টে মতামত প্রকাশের সময় সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও স্কুল ও কলেজ প্রশাসনকে সক্রিয় পর্যবেক্ষণ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার প্রশ্ন, ফলাফল বা গোপন নথি কোনোভাবেই সামাজিক মাধ্যমে প্রচার না পায়।
অধিদপ্তরের মতে, দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষকদের উপস্থিতি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। তাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ডিজিটাল নৈতিকতা’ ও ‘সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অসাবধানতা নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করতে পারে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো নিয়মভঙ্গ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন