খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে স্থাপিত সক্ষমতা সাধারণত চাহিদার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি থাকে, কিন্তু আমরা দ্বিগুণ সক্ষমতা নিয়ে বসে আছি। বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি দেখানোর জন্য একটার পর একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে।’
রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জালাল আহমেদ বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ৬৪০ কিলোওয়াট আওয়ার, যেখানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৩৪৮ ও মহারাষ্ট্রে ৩ হাজার কিলোওয়াট আওয়ার।
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাপটিভে ৪ হাজার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, উৎপাদন ক্ষমতা ৬ হাজার মেগাওয়াট। এখন নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সময় নেই; আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে অবস্থা কী দাঁড়াবে, তা এখনই ভাবতে হবে।’
এসময় তিনি জানান, বিইআরসি’র গবেষণা তহবিলের নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে, এখন থেকে গবেষণায় বিনিয়োগ শুরু হবে।
বিইপিআরসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, দেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা গবেষণা-বান্ধব নয়, যার কারণে আরও অনেক কাজের সুযোগ হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত এক বছরে চারটি গবেষণা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং দুটি চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সদস্য (ইনোভেশন) ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ১৭টি গবেষণা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি সম্পন্ন ও ৬টি চলমান। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা, ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি।
তিনি বলেন, দেশের মোট আমদানির মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশের ৬৫ শতাংশ প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি করতে হয়, যা পাঁচ বছরের মধ্যে ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানি নির্ভরতা কমাতে গবেষণার বিকল্প নেই। এতদিন ইনোভেশন ধাপে সহায়তা দিয়েছি, এখন ইনকিউবেশন ও শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস. এম. জিয়া-উল-আজমসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
খবরওয়ালা/ আশ