খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
সরকার কর্মরত পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিধি রাখার ছাড়াই পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে, যা কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, বর্তমানে যে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, তা অনুযায়ী কমিশন গঠিত হলে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তবে পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিশনের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার স্বার্থে কর্মরত সদস্যদের প্রতিনিধি রাখা হয়নি।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। খসড়ায় পুলিশের কর্মকাণ্ডে দায়মুক্তির বিষয়ে কোনও ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
পুলিশ কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, কমিশন হবে সংবিধিবদ্ধ, স্বাধীন ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এর নিজস্ব দপ্তর, বাজেট ও জনবল থাকবে এবং এটি ঢাকায় প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত হবে। কমিশন দায়িত্ব পালন করবে পুলিশের কর্মকাণ্ডের তদারকি, অভিযোগ তদন্ত, প্রশাসনিক সংস্কার, নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে। নাগরিক ও অভ্যন্তরীণ অভিযোগ সমাধান, পুলিশি কাজের নিয়মিত নিরীক্ষা ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জনআস্থা বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
কমিশনে মোট ৯ জন সদস্য থাকবেন—একজন চেয়ারম্যান, একজন সদস্য সচিব, পাঁচজন স্থায়ী সদস্য ও দুজন অস্থায়ী সদস্য। চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি। স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের মধ্যে থাকবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, জেলা জজ বা অভিজ্ঞ আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও ক্রিমিনাল জাস্টিসের অধ্যাপক, মানবাধিকার কর্মী এবং অন্তত একজন নারী সদস্য।
কমিশন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিক অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করবে, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করবে। অভ্যন্তরীণ অভিযোগ, পদোন্নতি বা বৈষম্য সংক্রান্ত সমস্যায় কমিটি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। কমিশন পুলিশ নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের পরামর্শ দেবে এবং আধুনিক, দক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পুলিশ বাহিনী গঠনে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা তাদের দাবি জানিয়েছে, তবে অধ্যাদেশের অনুমোদন আসার পর পুলিশ কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং তারপরে তাদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করা হবে।