খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সৌদি আরব থেকে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত কুরবানির দুম্বার মাংস আত্মসাৎ করে কর্মীদের নিয়ে ভূরিভোজের আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদারের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভূরিভোজের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে, মুছাপুর ১নং ওয়ার্ডের মধ্য মুছাপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সামনে হারুনের চা দোকানে। এর আগের দিন মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুস্থদের মাঝে দুম্বার মাংস বিতরণের সময় একটি কার্টন নেন নুরুল আলম সিকদার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই কার্টনে ছিল ১০টি প্যাকেটে মোট ৩০ কেজি দুম্বার মাংস। সেই মাংস দিয়েই বুধবার রাতে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার, মধ্য মুছাপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আমির হোসেন, যুবদল নেতা আবদুল হালিম সোহেল, শ্রমিক দল নেতা জসীম উদ্দিনসহ ১০-১২ জন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভূরিভোজের সময় শ্রমিক দল নেতা জসীম উদ্দিন বক্তব্য রাখছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, দুস্থদের জন্য বরাদ্দ মাংস কীভাবে রাজনৈতিক নেতার হাতে গেল। জানা গেছে, মোট ২২টি দুম্বার মাংসের কার্টন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২১টি বিতরণ করা হয় বিভিন্ন এতিমখানায়, আর একটি কার্টন নিজের স্বাক্ষরে নেন নুরুল আলম সিকদার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা নুরুল আলম সিকদার তার এলাকার জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মধ্য মুছাপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের নামে স্বাক্ষর দিয়ে মাংসের কার্টনটি গ্রহণ করেন। তবে সংগঠনটির সভাপতি আমির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম সোহেল দাবি করেছেন, তারা কোনো কুরবানির মাংস পাননি।
সংগঠনের সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ হারুন অবশ্য বলেছেন, ‘সেদিন দুপুরে নুরুল আলম সিকদার আমাকে দুই প্যাকেট মাংস দেন এবং বলেন এগুলো রান্না করে আমরা সবাই মিলে খাব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আলম সিকদার বলেন, ‘মধ্য মুছাপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ কোনো জামায়াতপন্থী সংগঠন নয়। আমি সংগঠনটির উপদেষ্টা। অফিসের সামনে হারুনের দোকানে দুটো প্যাকেট মাংস রাখা হয়েছিল। তবে ওই কার্টনের গোশতের প্যাকেট বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক নেতা নিয়েছেন।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর ফরহাদ শামীম বলেন, ‘নুরুল আলম সিকদার নিজ স্বাক্ষর দিয়ে মধ্য মুছাপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের নামে ১০ প্যাকেটের দুম্বার গোশতের কার্টনটি নিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এবং বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, নুরুল আলম সিকদার এর আগেও ভুয়া দলীয় প্যাড ব্যবহারসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচনায় এসেছিলেন এবং বেশ কয়েকবার জাতীয় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন।