খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চোরাকারবারির ফেলে দেওয়া ভারতীয় আতশবাজির বস্তা ট্রেনের নিচে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে শতাধিক যাত্রী অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
ঘটনা সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বুড়িচং উপজেলার পীতাম্বর এলাকার রেয়াছত আলী ফকির মাজার সংলগ্ন রেললাইনে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন সালদানদী ও শশীদাল রেলস্টেশন হয়ে চট্টলা এক্সপ্রেস ও নাসিরাবাদ ট্রেনের মাধ্যমে ভারতীয় বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার করে একদল চোরাকারবারি। সে দিন সন্ধ্যায় সদর রসুলপুর রেলস্টেশনে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলার খবর পেয়ে চোরাকারবারিরা তড়িঘড়ি করে ট্রেনের বাইরে বস্তাগুলো ফেলে দেয়। আতশবাজি ভর্তি একটি বস্তা পাশ দিয়ে ক্রস করা মহানগর গোধূলী এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে বিস্ফোরিত হয়।
বিস্ফোরণের সময় ট্রেনে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে এবং যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তবে ট্রেন চলন্ত অবস্থায় থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েনি, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর এলাকাবাসী রেললাইন থেকে ফেলে দেওয়া ভারতীয় পণ্য সংগ্রহ করতে দেখানো যায়। পরে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট দ্রুত এসব পণ্য সরিয়ে ফেলে।
স্কুলশিক্ষার্থী মাহফুজ, সিয়াম ও অমিত বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান চলার খবর পেয়ে চোরাকারবারিরা ট্রেন থামার আগেই বস্তাগুলো ফেলে দেয়। আতশবাজি ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে বিস্ফোরিত হলে ট্রেনে থাকা সবাই আতঙ্কিত হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় ট্রেন আসার আগে এসব অবৈধ মালামাল স্টেশনের বাথরুম ও অফিস কক্ষে রাখা হয় এবং সুযোগ বুঝে ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়।
এক নিয়মিত যাত্রী নাম প্রকাশ না করে বলেন, চোরাই মালামালের বস্তার আড়ালে মাদকদ্রব্য যেমন ইয়াবা, গাঁজা, ক্রিস্টাল মেথসহ (আইস) কসমেটিকস, আতশবাজি ও অন্যান্য পণ্য পাচার করা হয়। তার দাবি, এ কাজে কিছু ট্রেন কর্মকর্তা ও স্টেশন মাস্টার জড়িত থাকতে পারেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বেশ কয়েকটি সক্রিয় চোরাকারবারি সিন্ডিকেট রয়েছে। এর মধ্যে শশীদলের রেজাউল করিম ৩০ বছর ধরে রেলওয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে মাদকসহ ভারতীয় অবৈধ মালামাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করছে। তিনি পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিজিবির কিছু অসাধু সদস্যকে ব্যবহার করে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান হলেও পুনরায় এ কর্মকাণ্ড শুরু হয়।
সদর রসুলপুর স্টেশন মাস্টার প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেট সানোয়ার জাহানের নেতৃত্বে চট্টলা এক্সপ্রেসে অভিযান চলাকালীন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
খবরওয়ালা/টিএসএন