খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে প্রচলিত কাঠামো পরিবর্তন করে একটির পরিবর্তে চারটি প্রশ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি আলটিমেটাম এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সব পক্ষকে ছাড় দিয়ে সিদ্ধান্ত মানার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো সরকারকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা জানানো হয়নি।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের উপযুক্ত সময় না থাকায় নির্বাচন দিবসেই গণভোটের ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে ভারসাম্য বজায় রেখে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গণভোটের প্রচলিত কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে বলে কয়েকটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। সাধারণত গণভোটে একটি প্রশ্নের ওপর হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়া হয়। তবে এবার চারটি প্রশ্নে হ্যাঁ বা না ভোটের সুযোগ রাখা হচ্ছে।
প্রথম প্রশ্নে থাকবে—যেসব বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে কি না। দ্বিতীয় প্রশ্ন পিআর পদ্ধতি নিয়ে। তৃতীয় প্রশ্নে থাকতে পারে নোট অব ডিসেন্টসহ সনদ বাস্তবায়নের বিষয়। আর চতুর্থ প্রশ্নে রাখা হতে পারে—নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে না বিপক্ষে।
জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বড় দলগুলো গতকালও তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিএনপির মতে, গণভোট আগে করার যৌক্তিকতা বা সময় নেই। তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের দিন একই ব্যালটে গণসম্মতি নেওয়াই হবে সবচেয়ে যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য ও সাশ্রয়ী।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তিসহ পাঁচ দফা দাবি ১৬ নভেম্বরের মধ্যে না মানলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনরত আট দল। এদিকে জুলাই সনদের অপর অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনের আগে গণভোট এবং বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ছোট দলগুলোও নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সিদ্ধান্তে সমর্থন দিচ্ছে এবং আলাদা কোনো অবস্থান জানায়নি। এ অবস্থায় ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত দিতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সরকার শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। এ নিয়ে উপদেষ্টারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন এবং রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও গণভোটের সময় নিয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেবে, যা সব দল মেনে নিতে পারবে। তিনি বলেন, সরকার কোনো পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেবে না বরং দলগুলোর অবস্থান সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদের আদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এতে স্বাক্ষর করতে পারেন। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে সব দলের প্রত্যাশা ও দেশের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা জানিয়েছেন, তারা এখনো জানেন না সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তারা গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার কী ঘোষণা দেয়, তার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী দলীয় অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। তাদের আশা, সরকার রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে, কারণ জুলাই আন্দোলনে গঠিত এই সরকারকে দলগুলো সহযোগিতা করছে।
বিএনপির মিত্র বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। সরকারের আলোচনাভিত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর আমাদের আস্থা আছে। একইভাবে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, চারটি প্রশ্ন নিয়ে গণভোটের বিষয়টি সরকারকে খুবই সতর্কতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই দলগুলোর অবস্থান পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশা করেন।
সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব সুপারিশে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। ৩০টি দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। এতে ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ২৬টি দল ও জোট ইতোমধ্যে সই করেছে এবং সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন