খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে নিরব-নিশ্ছিন্ন পথ; কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল গড়াতেই রাজনগর চা–বাগানের হাসপাতাল টিলা এলাকায় জমে ওঠে এক বেলার সাপ্তাহিক হাট। চা–বাগানের টিলা বেয়ে যখন শ্রমিকেরা ঘরে ফেরেন—কাঁধে শুকনা কাঠ, মাথায় ঘাসের আঁটি বা হাতে শূন্য ঝোলা—তখনই শুরু হয় হাটমুখী মানুষের ভিড়। সেদিনই তলববার, অর্থাৎ সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার দিন। আর সেই টানেই শ্রমিক পরিবার, আশপাশের গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে ভরে ওঠে বাজার।
বেলা তিনটার দিকে হাট বসতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তলব পাওয়া শ্রমিকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে চারদিক। সন্ধ্যা নামার পর হাটের দৃশ্য যেন এক উৎসব। মাছ, শাকসবজি, শুকনা খাবার, মসলা, গৃহস্থালি সামগ্রী—সবই মেলে এই স্বল্পসময়কার বাজারে।
হাটে কথা হয় চা–শ্রমিক নিমাই শুক্ল বৈদ্যর সঙ্গে। মজুরি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় দোকানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন তিনি। বললেন,
“বৃহস্পতিবার এখনো তলব পাইনি। পাইলে বাজার করমু। বারো শ টাকা তলব পাই—এই টাকায় কী আর হয়? দুই-তিন দিন একটু ভালো চলে, তারপরই টানাটানি।”
হাটে দীর্ঘদিন ধরে আসা ব্যবসায়ীরাও জানান তাঁদের গল্প। টেংরা বাজারের ব্যবসায়ী সুফিয়ান খান চার–পাঁচ বছর ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার সবজি নিয়ে আসেন এখানে। আর ব্রাহ্মণবাজারের মোহন কানু প্রায় পঁচিশ বছর ধরে নিজের হাতে তৈরি খাজা, বুন্দিয়া, নিমকি, মিষ্টি, জিলাপি, চানাচুরসহ নানা শুকনা খাবার বিক্রি করছেন। সন্ধ্যার পরই তাঁর দোকানে ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়।
হাটের মুখেই দেখা মিলল নরসুন্দরের; টুলে বসিয়ে চুল–দাড়ি কেটে দিচ্ছেন। পাশে বেতের টুকরি, ঝাঁকা, পান–সুপারি, মসলাপাতি, প্রসাধনী, খেলনা, আইসক্রিম—সব মিলিয়ে এক বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ পরিবেশ। গাইবান্ধার আব্দুল করিম জানালেন, তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে এখানে ‘গরম মসলা’ বিক্রি করেন।
রাত আট–নয়টা পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। তারপর ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায় হাট। দিনের কোলাহল থেমে গিয়ে চা–বাগান আবার ফিরে পায় রাতের সেই পরিচিত নীরবতা।
খবরওয়ালা/এসজে