খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলা সংগীতচর্চার জগতে মোবারক হোসেন খান এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। তিনি সংগীত গবেষক, লেখক, বেতারব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। তাঁর অবদান কেবল বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেনি, বরং স্থায়ী ভিত্তি ও মূল্যবান দলিলভাণ্ডারও প্রদান করেছে।
১৯৩৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শিবপুর গ্রামে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি সংগীতপরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা কিংবদন্তি ওস্তাদ আয়েত আলী খান, মাতা উমরউন্নেসা খানম। চাচা মহান সংগীতগুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, যাঁর সান্নিধ্য পরিবারটিকে উপমহাদেশীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অনন্য ধারক করেছে।
একগুচ্ছ ১১ ভাইবোনের মধ্যে শৈশব থেকেই সংগীত ছিল তাঁর জীবনের অঙ্গ। এই পরিবারে আরও ছিলেন অসংখ্য সংগীত তারকা—আম্বিয়া খানম, ওস্তাদ আবেদ হোসেন খান, ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান, মমতা খানম, শেখ সাদী খান, তানসেন খান, ইয়াসমিন খানম, বিটোফেন খান, কোহিনূর খানম ও রিজিয়া বেগম। শেষ দুইজন অল্প বয়সে প্রয়াত হওয়ায় তাঁদের নাম তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত।
তিনি খ্যাতিমান ইয়াসমিন পরিবারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথিতযশা শিল্পী ফওজিয়া ইয়াসমিন তাঁর জীবনসঙ্গী। ফলে প্রয়াত নীলুফার ইয়াসমিন ও সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে তিনি স্নেহের ভগ্নিপতি হিসেবে পরিচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৬২ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারে অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের নিবেদিত কর্মজীবনে তিনি বেতারের পরিচালক পর্যন্ত উন্নীত হন। পরবর্তীতে ১৯৯২–১৯৯৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
লেখালেখি ছিল তাঁর নীরব সাধনা। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৩৭টি, যা বাংলা সংগীত গবেষণায় বিরল অর্জন।
সংগীতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন:
একুশে পদক (১৯৮৬)
স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৪)
বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০০২)
ব্যক্তিজীবনে তিন সন্তানকে তিনি গড়ে তুলেছেন—
বিশিষ্ট সেতারবাদক অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া খান
বুয়েটের স্থপতি তারিফ হায়াত খান
কোয়ালিফাইড একাউন্টেন্ট ও খ্যাতিমান সরোদবাদক তানিম হায়াত খান রাজিত
২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর প্রথিতযশা সংগীতগবেষক মোবারক হোসেন খানের জীবনযাত্রার পর্দা পড়ে। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কাজ, লেখনী ও সাংস্কৃতিক অবদান আজও বাংলা সংগীতভুবনকে আলোকিত করছে।
সশ্রদ্ধ স্মরণ ও গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
খবরওয়ালা/টিএসএন