খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার হার্ট ও ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে। হাসপাতালের চিকৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই উনি ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। আজকে আমরা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেছি, কারণ তার একাধিক সমস্যা একসাথে দেখা দিয়েছে। তার চেস্টে ইনফেকশন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উনার হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে পারমানেন্ট পেসমেকার রয়েছে এবং রিং ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া মাইট্রোস্টেনোসিস নামের একটি অবস্থা রয়েছে। চেস্টে ইনফেকশনের কারণে হার্ট ও ফুসফুস একসাথে আক্রান্ত হয়েছে, ফলে রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস দেখা দিয়েছে। এজন্য দ্রুত তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।’
মেডিকেল বোর্ডের সদস্য বলেন, ‘খালেদা জিয়া ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় দ্রুত পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী তাকে এন্টিবায়োটিকসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও কিছু রিপোর্ট আসবে। নেক্সট ১২ ঘণ্টায় তার পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
রোববার রাত ৮টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে আছেন। ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসেন। এতে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. জিয়াউল হক, ডা. মামুন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি ডা. জুবাইদা রহমান ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনহোপকিংস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানান, ‘মেডিকেল বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত কোনো বিষয় নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ ঘণ্টায় মেডিকেল বোর্ড আবার বসবেন এবং তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।’
এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, ভোর থেকেই তার ছেলে তারেক রহমান ও সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান সর্বাক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী সৈয়দা শামিলা রহমানও রয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, ম্যাডাম দেশবাসীর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ৭ জানুয়ারি তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। ১১৭ দিন চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন