খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ সরকার গতকাল (২৩ নভেম্বর) জমা সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর অনুমোদন দিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জমাদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করা। এটি দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হিসেবে বিবেচিত হবে, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা মানুষের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আলোচিত অধ্যাদেশটির খসড়া গতকাল প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরামর্শক পরিষদের সভায় অনুমোদিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, “এই অধ্যাদেশটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং জমাদাতাদের স্বার্থ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।”
নতুন অধ্যাদেশের আওতায়, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০০০ সালের ব্যাংক ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, এককালীন জমা সুরক্ষা সীমা ছিল ১,০০,০০০ টাকা, যা নতুন অধ্যাদেশে দ্বিগুণ করে ২,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশের প্রায় ৯৩% জমাদাতা সুরক্ষিত থাকবেন।
শফিকুল আলম আরও জানান, নতুন অধ্যাদেশে ছয়টি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি আলাদা তহবিল প্রতিষ্ঠা করা হবে—ব্যাংক কোম্পানি ডিপোজিট প্রটেকশন ফান্ড এবং ফাইনান্স কোম্পানি ডিপোজিট প্রটেকশন ফান্ড। এই তহবিল দুটি পরস্পর থেকে আলাদা থাকবে এবং একে অপরের মধ্যে ঋণ-সাক্ষর বা বিনিময় সম্ভব নয়।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নবনির্মিত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রথম প্রিমিয়াম ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এছাড়া, ২০২৮ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ব্যাংক এবং নতুন ও পুরোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। প্রথম প্রিমিয়াম হার হবে অন্তত ০.৫০% বা ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা নির্ধারিত হারে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
নির্ধারিত সুরক্ষিত জমার পরিমাণ: সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা
সন্তুষ্টির সময়সীমা: ১৮০ দিনের পরিবর্তে ১৭ কার্যদিবস
পর্যালোচনা: ট্রাস্টি বোর্ড প্রতি তিন বছরে সর্বোচ্চ সীমা পর্যালোচনা করবে।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| সর্বাধিক সুরক্ষিত জমার পরিমাণ | ২,০০,০০০ টাকা (প্রায় £১,৬০০) |
| জমা সুরক্ষা তহবিল | ব্যাংক কোম্পানি জমা সুরক্ষা তহবিল, ফাইনান্স কোম্পানি জমা সুরক্ষা তহবিল |
| প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সময়সীমা | নবীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাইসেন্স দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে |
| বাধ্যতামূলক সদস্যপদ অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা | ৩১ জুলাই ২০২৮-এর মধ্যে সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সদস্য হতে হবে |
| প্রিমিয়াম হার | অন্তত ০.৫০% মূলধন বা ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা নির্ধারিত হার |
| দাবি নিষ্পত্তির সময় | ১৮০ কার্যদিবস থেকে কমিয়ে ১৭ কার্যদিবসে এনে নিষ্পত্তি করা হবে |
| তহবিল ব্যবস্থাপনা কৌশল | নিরাপদ বিনিয়োগ, তারল্য এবং বৈচিত্র্যকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে |
এই অধ্যাদেশ জমা সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে জনসাধারণের আস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।