খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
গত দুই মাস ধরে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সেনারা মোতায়েন করা হয়েছে। বেসামরিক নৌযান লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মাদক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ পরিকল্পনার অংশ। এই হামলায় ইতিমধ্যে ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সামরিক অভিযানের সম্প্রসারণের আহ্বান শোনা যাচ্ছে।
ভূগোলবিদ স্টুয়ার্ট এলডেন ‘টেরর অ্যান্ড টেরিটরি’ বইয়ে দেখিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদকে শুধু রাষ্ট্রবহির্ভূত গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র নিজেও ভয় সৃষ্টি করে এবং এ ধরনের সংঘাতের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র দ্বারা হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা রাষ্ট্রবহির্ভূত সন্ত্রাসের চেয়ে অনেক বেশি। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ২০০১-২০২৩ সালের মধ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ ৪ লাখের বেশি বেসামরিক প্রাণহানি ঘটেছে, আর পরোক্ষভাবে নিহতের সংখ্যা ৩৫ লাখের কাছাকাছি।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা লক্ষ্য করে দেখা যায়, আদালতের তদারকি ও সংবিধানগত সীমাবদ্ধতাকে প্রভাবহীন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের হাতে সীমাহীন সামরিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যাতে কোনো বাহ্যিক নজরদারি ছাড়া বেসামরিক বা বিদেশি লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করা যায়। ভেনেজুয়েলার নৌকাগুলোর ওপর হামলার যুক্তি হিসেবে ট্রাম্প অতিমাত্রায় মাদক সেবনের ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বাস্তবে এগুলোর কোনো প্রমাণ নেই।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’কে ভেনেজুয়েলায় পুনরায় প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, তদারকিহীন সামরিক কার্যক্রম এবং তথ্যপ্রমাণ উপেক্ষার মধ্য দিয়ে মানবতার প্রতি বড় ধরনের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।