খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ন্যাশনাল হেরাল্ড অর্থপাচার মামলায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে নতুন ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি একটি নতুন এফআইআরের অংশ, যা তাদের সহ আরও চারজন ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (Economic Offences Wing)।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই মামলায় অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪০৩ (অসৎভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ), ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি), এবং ৪২০ (প্রতারণা) ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এফআইআরে রাহুল ও সোনিয়ার সঙ্গে কংগ্রেস নেতা সুমন দুবে, শ্যাম পিত্রোদার এবং কিছু প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডটেক্স মার্চেন্ডাইস লিমিটেড, ডটেক্সের প্রোমোটার সুনীল ভান্ডারি, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেড এবং কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিও।
ইডি গত এপ্রিল মাসে চার্জশিট আদালতে জমা করেছে। সেই চার্জশিটে রাহুল ও সোনিয়ার নামের পাশাপাশি অন্যদের নামও উল্লেখ রয়েছে। আদালত এখনও চার্জশিট গ্রহণ করেনি। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ইডির তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এমন মামলা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকাটি জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত এবং তা আগাগোড়াই কংগ্রেস পরিচালিত। ২০০৮ সালে ইংরেজি দৈনিকটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়, তবে ২০১৬ সালে এর ডিজিটাল সংস্করণ চালু হয়।
বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামী ২০১২ সালে ন্যাশনাল হেরাল্ডের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, গান্ধী পরিবার কংগ্রেস দলের তহবিল ব্যবহার করে এজেএল সংস্থার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করেছে। স্বামীর অভিযোগ অনুসারে, এজেএলের ৫ হাজার কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি ইয়ং ইন্ডিয়ান নামের একটি সংস্থা মাত্র ৫০ লাখ টাকায় কিনে নেয়। সেই সংস্থার মোট শেয়ারের ৭৬ শতাংশের মালিক সোনিয়া ও রাহুল, প্রত্যেকে ৩৮ শতাংশ শেয়ার রাখেন।
এজেএলের অধিগ্রহণের ফলে ৯০ কোটি টাকার দেনা ইয়ং ইন্ডিয়ানের ওপর চলে আসে। পাশাপাশি দিল্লি, মুম্বাই, লক্ষ্ণৌ, পাটনা, ভোপাল, ইন্দোরসহ বিভিন্ন শহরে থাকা স্থাবর সম্পত্তির মালিকানাও তাদের হাতে আসে। অধিগ্রহণের পর কংগ্রেস ওই ৯০ কোটি ঋণ মওকুফ করে দেয়।