খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রেহানার কোনো ছবি ছিল না। তাই তাঁর বাবা আবদুস সালাম খান চার মাস বয়সী মেয়ের ছোট্ট জামাটিই কাচের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখেছিলেন। এটি এক সাধারণ, ফিকে হলুদ সুতি কাপড়ের হাতাকাটা জামা, বুকের ফালি খয়েরি রঙের। রেহানার এই জামা এখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ২ নম্বর গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে।
খুলনার সেনহাটি গ্রামের আবদুস সালাম খান বরাবরই পাকিস্তানের শাসন-বিরোধী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি গ্রামে তরুণদের সংগঠিত করে যুদ্ধের প্রস্তুতি দেন। ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল দালালরা পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে। সালাম খানকে না পেয়ে তারা চার মাস বয়সী রেহানাকে বাড়ির উঠানে আছাড় দিয়ে হত্যা করে।
রাতের অন্ধকারে সালাম খান ফিরে এসে মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ পরিচ্ছন্ন করে রূপসা নদীতে ভাসিয়ে দেন। যুদ্ধ শেষে দেশে স্বাধীনতা আসে, কিন্তু রেহানা নেই। মেয়ের স্মৃতিরক্ষা হিসেবে তাঁর জামাটি ফ্রেমে বাঁধা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক জানালেন, ১৯৯৬ সালে খুলনায় একটি সুধী সমাবেশে আবদুস সালাম খান নিজের হাতে জামাটি তুলে দেন এবং মেয়ের মর্মান্তিক পরিণতি জানালেন। তিনি পরবর্তীতে জাদুঘরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।
ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ‘জামা আমাদের দেখায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশু পর্যন্ত গণহত্যার কবলে পড়েছিল।’ সালাম খান ২০০৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মারা যান। রেহানার জামা শুধু বেদনাবিধুর স্মারক নয়, এটি স্বাধীনতার জন্য দেয়া সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রমাণ।
খবরওয়ালা/টিএসএন