খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজ শনিবার ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে এই পরীক্ষা, যেখানে মাত্র ১,০৫০টি আসন পূরণের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৪ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি আসনের জন্য প্রায় ৩৩ জন শিক্ষার্থী লড়াই করেছে, যা প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করেছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম ও প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ।
তাঁরা পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও নিয়মশৃঙ্খলা যাচাই করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ঢাকার কেন্দ্রগুলো ছাড়াও দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা এবং রংপুর—এ একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার দিন সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়ে চারপাশ সরগরম হয়ে ওঠে।
উপাচার্য পরীক্ষার সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি অন্যতম সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা। এমন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এত উচ্চ উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা ও আগ্রহকে তুলে ধরে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবকদের উচিত নয় সন্তানদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা। ভর্তি পরীক্ষা জীবনের শেষ নয়, বরং সম্ভাবনার একটি ধাপ মাত্র।”
ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভাগভেদে আবেদন করেছেন—বিজ্ঞান শাখা থেকে ৫,১৪৮ জন, মানবিক শাখা থেকে ৫,৮৯২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ২৩,০২২ জন।
এ বছর আসন বরাদ্দও স্পষ্টভাবে ভাগ করা হয়েছে: ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৯৩০টি, বিজ্ঞান শাখায় ৯৫টি এবং মানবিক শাখায় ২৫টি।
পরীক্ষার্থীরা বলেন, প্রশ্ন ছিল সময়সাপেক্ষ এবং গতানুগতিক ধাঁচের বাইরে। অনেকেই মনে করেন এটি ছিল এক ধরনের মানসিক পরীক্ষা, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সবচেয়ে জরুরি ছিল।
অভিভাবকদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, এবং পরীক্ষার সময়সীমা সঠিকভাবে মেনে চলার কারণে তারা আশ্বস্ত বোধ করেছেন।
পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকা অনেকের নজর কাড়ে।
দিন শেষে শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল আশা ও কিছুটা উত্তেজনা—ফলাফল কখন প্রকাশিত হবে, কে কে পাবে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ, সেসব নিয়েই চলছিল আলোচনা।
দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই ইউনিটে ভর্তি হওয়া যেন তাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দিতে পারে—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।