খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজায় ইসরায়েলের সহযোগী বলে পরিচিত মিলিশিয়া নেতা ইয়াসির আবু শাবাব অবশেষে নিহত হয়েছেন, আর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে হামাস—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে কাসেম ব্রিগেডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। সূত্রটি জানিয়েছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ গোপন, নিখুঁত ও দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি অভ্যন্তরীণ অভিযান। বহুদিন ধরেই এই ইসরায়েল–ঘনিষ্ঠ বাহিনীকে হামাসের জন্য “সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকি” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
সূত্র জানায়, হামাসের সামরিক শাখা প্রথমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা নিজেরাই একজন তরুণকে আবু শাবাবের পপুলার ফোর্সেস সংগঠনে প্রবেশ করাতে সক্ষম হয়। ওই যুবক নিজেকে নতুন যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংগঠনে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে আবু শাবাবের বিশ্বাস অর্জন করেন। তারপরই আসে পরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন—গত বৃহস্পতিবার রাফায় অতর্কিত হামলায় নিহত হন আবু শাবাব ও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
গাজায় আবু শাবাবের উত্থান ও বিতর্ক
৩৩ বছর বয়সী এই তরুণ নেতা মাত্র গত বছরই গাজার দক্ষিণাঞ্চলে পপুলার ফোর্সেস নামে একটি মিলিশিয়া সংগঠনের প্রধান হিসেবে পরিচিতি পান। স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের চোখে এই বাহিনী ছিল ইসরায়েলেরই ভাড়াটে দল। কারণ তারা মূলত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ওপর দমন-পীড়ন, তল্লাশি, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ এবং অস্ত্র লুটের মতো কাজ করত। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা গাজার প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করছিল।
যদিও আবু শাবাব সবসময় দাবি করতেন তাঁর বাহিনী মানবিক সহায়তা বিতরণে কাজ করে এবং ‘হামাসমুক্ত’ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, কিন্তু স্থানীয়দের মতে, এসব ছিল ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার আড়াল। এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও সম্প্রতি গাজায় একটি সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেছেন—যদিও তিনি নাম উল্লেখ করেননি।
যেভাবে সম্পন্ন হয় হত্যাকাণ্ড
সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবারের অভিযান ছিল পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ। কারণ হামাস জানত—বাইরের কোনো আক্রমণ হলে আবু শাবাব ইসরায়েলি ট্যাংকের আশ্রয় নেবে। তাই পরিকল্পনাটি কৌশলে বদলে ফেলা হয়। হামাসের অন্তর্ঘাতকারী তরুণটি অভ্যন্তর থেকেই আক্রমণ ঘটিয়ে সবাইকে হতচকিত করেন। ফলে কোনো প্রতিরোধের সুযোগই পাননি আবু শাবাব।
রাফায় তাঁর বাহিনী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সক্রিয় থাকায় তারা কখনোই ভাবেনি যে হামলা ভেতর থেকে হতে পারে। এ কারণেই হামাসের গোপন হামলাকারী সফল হতে পেরেছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া—‘অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি’
গাজার বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি আবু শাবাবকে একজন অপরাধী হিসেবেই দেখতেন। তিনি অতীতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পালিয়ে যান। পরে ইসরায়েলের সহায়তায় তাঁর উত্থান ঘটে।
স্থানীয়রা বলছেন, তাঁর মৃত্যু গাজার জন্য “একটি অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি”। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাহিনী মানবিক সহায়তা লুট, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হত্যা—এসব অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সূত্র আরও জানায়, “যে নেতা রাফায় হামাসকে ‘নির্মূল’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত নিজ দলের ভেতর থেকে হামলার শিকার হয়েছেন—এটাই সত্যের নির্মম বাস্তবতা।”