খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে তারা একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ অর্জন করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, আসন্ন আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দশ দফা প্রস্তাবের কাঠামো মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা না করার নিশ্চয়তা, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান। একই সঙ্গে বলা হয়, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হবে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, এই আলোচনা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার প্রাথমিক ধাপ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন করেছে। তিনি বলেন, একটি বিস্তৃত রূপরেখা তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৫টি দফা রয়েছে এবং অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি ভবিষ্যতে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে চালু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক একাধিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ পরিস্থিতি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
ইয়ার লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইসরায়েল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না, যা তিনি ‘অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর একটিও পূরণ হয়নি।
নিচে ইরানের প্রস্তাবিত দশ দফা কাঠামো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রম | প্রস্তাবিত বিষয় |
|---|---|
| ১ | সামরিক হামলা না করার নিশ্চয়তা |
| ২ | হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা |
| ৩ | অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার |
| ৪ | বিদেশি সেনা প্রত্যাহার |
| ৫ | যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান |
| ৬ | আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তি |
| ৭ | পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পর্যবেক্ষণ কাঠামো |
| ৮ | বন্দি বিনিময় আলোচনা |
| ৯ | জ্বালানি রপ্তানি বাধা প্রত্যাহার |
| ১০ | দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখা |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতা কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের আলোচনার ফলাফলের ওপর।