খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নীতি–সহায়তার আড়ালে খেলাপি ঋণ গোপন রাখার যে সুযোগ দীর্ঘদিন ছিল, সরকার পরিবর্তনের পর তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গোপন স্তর সরে গিয়ে পুরো চিত্র সামনে এসেছে—খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। স্বাভাবিকভাবেই ঋণ আদায়ে চাপ বেড়েছে, আর ব্যাংকগুলো দ্রুত আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছে।
গত এপ্রিল থেকে জুন তিন মাসে প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো ১৪ হাজার ৬৫২টি মামলা করেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ৪ লাখ সাত হাজার ৪৩৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ মামলায় ঝুলে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন শেষে অর্থঋণ আদালতে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৪১। এসব মামলায় আটকে রয়েছে ৪ লাখ সাত হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। এর তিন মাস আগে মার্চ শেষে মামলার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৩ এবং আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। গতকাল ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সভায় খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ আদায়ের চাপ বাড়ায় ব্যাংকগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি মামলা করছে। আগের সরকারের সময়ে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত বহু বড় ঋণগ্রহীতা এই তালিকায় রয়েছেন, যাদের অনেকেই বর্তমানে পলাতক বা কারাগারে আছেন। এসব কারণে অল্প সময়ে এত বিপুল অঙ্কের ঋণ আদায়ে মামলা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়িয়ে সাতটিতে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগে ছিল চারটি।
খবরওয়ালা /এসএস