খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানী ঢাকায় শীতের প্রভাব হঠাৎ করেই তীব্র হয়ে উঠেছে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে তাপমাত্রা কমার ধারাবাহিকতার মধ্যে শুক্রবার সকালটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই তাপমাত্রা নামা শুধু ঠান্ডার অনুভূতি বাড়ায়নি, বরং শীতের মৌসুমি প্রভাব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সকাল ৬টার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে কুয়াশার পাতলা পর্দা। যদিও এটিকে অতিরিক্ত কুয়াশা বলা যাবে না, তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে শীতের উপস্থিতি বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ। এ ধরনের আর্দ্রতা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা ভোরে বাইরে বের হন, তাদের জন্য এই ঠান্ডা সুবিধাজনক হলেও অনেকের কাছে তা হঠাৎ করে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে যে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে, তারই প্রভাব ধীরে ধীরে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের দিকে নেমে আসছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শৈত্যপ্রবাহের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—তাপমাত্রার এই ধারা অব্যাহত থাকলে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে আকাশ প্রধানত শুষ্ক থাকায় বৃষ্টি বা মেঘের সম্ভাবনা নেই। ফলে দিনব্যাপী শীতের প্রভাব একই থাকবে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এতে দিনের বেলা রোদ উঠলেও হালকা শীত থাকবে এবং সন্ধ্যার পর তা আরও বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের আবহাওয়ায় বড় কোনও পরিবর্তন আসছে না। সারাদেশেই শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে এবং আংশিক মেঘের উপস্থিতি থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা একই থাকবে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। অর্থাৎ সামনে আরও কনকনে ঠান্ডা অপেক্ষা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই শীত পূর্ণমাত্রায় নামতে শুরু করবে। তাই সাধারণ মানুষকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি।