খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গভীর রাতে সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রশাসনিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোররাত আনুমানিক চারটার দিকে কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অফিস সরঞ্জামের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো ভবনটি।
প্রাথমিক তদন্তে নির্বাচন কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। কার্যালয়ে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে পুরো ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, এক মুখোশধারী যুবক ভোরের নির্জন সময়ে পশ্চিম পাশের উঁচু দেয়াল টপকে কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে। কিছু সময় ভেতরে অবস্থানের পর হঠাৎ নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়। এরপরই দ্রুত একই দেয়াল টপকে সে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংঘটিত হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন জানান, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে ওই যুবক কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ভবনের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়া ও তাপ অনুভব করার পর তিনি জেগে উঠে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই চিৎকার শুনেই অগ্নিসংযোগকারী দ্রুত পালিয়ে যায়।
আগুনে ২০০৮ ও ২০০৯ সালের ভোটার নিবন্ধনের দ্বিতীয় কপি ফরমসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি পুড়ে যায়, যেগুলো যাচাই ও রেফারেন্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া একটি পুরোনো ডেস্কটপ কম্পিউটার, সিপিইউ ও সংরক্ষিত অন্যান্য সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, দ্রুত আগুন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্র ও সরঞ্জামের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে অফিসের কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক জানান, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।