খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যেখানে নাগরিকরা কোথাও বর্জ্য পোড়ানোর দৃশ্য দেখলে তা ছবি তুলে মন্ত্রণালয়ে পাঠালে পুরস্কারের সুযোগ পাবেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ দেশের মধ্যে নিয়মিতভাবে বায়ুদূষণের মাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শীতকালে শুকনো মৌসুমে বায়ুদূষণের তীব্রতা বেশি হয়। নাগরিকদের সাহায্যে এই সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্জ্য পোড়ানোর ছবি climatechange2@moef.gov.bd ঠিকানায় পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ছবির সঙ্গে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে প্রেরকের নাম, মোবাইল নম্বর, ঘটনার স্থান, এলাকার ঠিকানা এবং সময়।
প্রতি মাসে প্রাপ্ত ছবিগুলো যাচাই-বাছাই করে সেরা ১০টি ছবি নির্বাচিত হবে। নির্বাচিত প্রেরকদের জন্য থাকবে পুরস্কার। আয়োজকরা আশা করছেন, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| সূচক | তথ্য |
|---|---|
| ঢাকার বায়ুদূষণে বর্জ্য পোড়ানোর অবদান | ১১% (World Bank, ২০২৪) |
| পিএম ২.৫ কণার ঘনত্ব বৃদ্ধি (১৯৯৮–২০২৩) | ৬৬.২% |
| মানুষের আয়ু কমেছে | গড়ে ৫.৫ বছর |
| সম্ভাব্য আয়ু বৃদ্ধি (পিএম ২.৫ কমালে) | ৬.২ বছর |
| সবচেয়ে দূষিত জেলা | ঢাকা ও চট্টগ্রাম |
| শিশুদের স্বাস্থ্য প্রভাব | নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, যক্ষ্মা বৃদ্ধি |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বায়ুদূষণের প্রভাবে শিশুদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপ দিন দিন বেড়েছে। শিশুদের নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে বায়ুদূষণ মানুষের আয়ু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারি উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল ছবি সংগ্রহ করা নয়; এটি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস। ছবির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে, যার ফলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য মিলবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের নাগরিক অংশগ্রহণভিত্তিক উদ্যোগ দেশব্যাপী পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা করছেন, মানুষ সচেতন হয়ে বর্জ্য পোড়ানো কমাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণজনিত সমস্যাগুলো হ্রাস পাবে।
সরকারি এই পদক্ষেপ নাগরিকদের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শুধু প্রশাসন নয়, জনগণকেও এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।