খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম তিন টেস্টেই হার, ১১ দিনের মধ্যে সিরিজ হাতছাড়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা বিধ্বস্ত হওয়ার গ্লানি—সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট এখন খাদের কিনারায়। মাঠের এই চরম ব্যর্থতার মাঝে এবার যুক্ত হয়েছে মাঠের বাইরের নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মধ্যবর্তী বিরতিতে ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত মদ্যপানে লিপ্ত ছিলেন। দলের এমন শৃঙ্খলাহীন আচরণের খবর সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ইংল্যান্ড দলের পরিচালক রব কি এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন।
পার্থ ও ব্রিসবেনের প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয়ভাবে হারের পর ইংল্যান্ড দল কিছুদিনের বিশ্রামের জন্য কুইন্সল্যান্ডের নুসায় অবকাশ যাপনে গিয়েছিল। ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সেই ছুটি মোটেও বিশ্রামের ছিল না। বরং একাধিক খেলোয়াড় সেখানে নিয়মিত এবং মাত্রাধিক মদ্যপান করেছেন। কিছু প্রতিবেদনে এই বিরতিকে একটি ‘স্ট্যাগ ডু’ বা ব্যাচেলর পার্টির উচ্ছৃঙ্খল আয়োজনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অ্যাশেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে যখন দল ধুঁকছে, তখন খেলোয়াড়দের এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ দেশটির ক্রিকেট ভক্তরা।
মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রব কি জানান, এই প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। তাঁর বক্তব্য ও সিরিজের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| সিরিজের বর্তমান অবস্থা | ৩-০ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে (অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার)। |
| বিতর্কের স্থান | কুইন্সল্যান্ডের নুসা (অবকাশ যাপন কেন্দ্র)। |
| মূল অভিযোগ | অতিরিক্ত মদ্যপান এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ। |
| তদন্তের দায়িত্ব | রব কি (ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পরিচালক)। |
| পরবর্তী ম্যাচ | মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ‘বক্সিং ডে’ টেস্ট (শুক্রবার)। |
| কোচের অবস্থান | পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ। |
রব কি তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, “সংবাদপত্রের শিরোনাম অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কোথাও কোথাও একে ‘স্ট্যাগ ডু’ বলা হচ্ছে এবং দাবি করা হচ্ছে যে খেলোয়াড়রা টানা ছয় দিন মদ্যপান করেছেন। যদি এটি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমাদের আসল ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো ছবিতে পাঁচ-ছয়জন খেলোয়াড়কে একসঙ্গে লাঞ্চ করতে দেখা গেল এবং সেখানে কারও হাতে পানীয় থাকল—তা দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। আমাদের পুরো প্রেক্ষাপটটি বুঝতে হবে।”
ইংল্যান্ড ক্রিকেটে ‘ড্রিঙ্কিং কালচার’ বা মদ্যপানের সংস্কৃতি নিয়ে রব কি আগে থেকেই সোচ্চার। তিনি মনে করেন, মাঠের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার পেছনে শৃঙ্খলার অভাব একটি বড় কারণ হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি মদ্যপানের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি না এবং এমন আচরণ পছন্দও করি না। যদি বিরতিটি সত্যিই উচ্ছৃঙ্খল মদ্যপানের আসরে পরিণত হয়ে থাকে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য যে, সিরিজ শুরুর আগেই রব কি খেলোয়াড়দের সতর্ক করে বলেছিলেন, তারা যেন ‘বোকার মতো’ কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়েন।
অ্যাশেজের বাকি দুই টেস্টে সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ড। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘বক্সিং ডে’ টেস্টের আগে এই বিতর্ক দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক সামলে মাঠের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।