খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৫৪ পিএম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় গভীর রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি ঘরে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় বিএনপির এক নেতা সাইফুল সর্দার ওরফে সাইফেল (৪৭) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা এবং পুলিশ সূত্র জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ নৃশংস ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতের দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ জাটিগ্রাম এলাকায় ঘটে। নিহত সাইফুল সর্দার ওই গ্রামের হবি সর্দারের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পেশায় তিনি একজন কৃষক ছিলেন। এই হামলায় আরও একজন স্থানীয়, ইসমাইল মোল্যা, গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘তুহিন গ্রুপ’ এবং ‘জুয়েল গ্রুপ’ নামে দুই সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গভীর রাতে তুহিন গ্রুপের সমর্থক সাইফুল সর্দারের ঘরে পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করে হামলা চালায়। আহত সাইফুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় সন্ত্রাস ও গ্রুপ ভিত্তিক সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
নিচের টেবিলে নিহত ও আহতের তথ্য এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| নাম | বয়স | পদবি/পেশা | অবস্থা | ঘটনার সময় ও স্থান | সম্পর্কিত গোষ্ঠী |
|---|---|---|---|---|---|
| সাইফুল সর্দার | ৪৭ | সদর ইউনিয়ন বিএনপি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, কৃষক | নিহত | ২৫ ডিসেম্বর রাত, ব্রাহ্মণ জাটিগ্রাম | তুহিন গ্রুপ সমর্থক |
| ইসমাইল মোল্যা | অজানা | স্থানীয় কৃষক/নাগরিক | গুরুতর আহত | ২৫ ডিসেম্বর রাত, ব্রাহ্মণ জাটিগ্রাম | – |
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করায়, এটি পরিকল্পিত হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ফরিদপুরের এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় স্তরে গ্রুপ-ভিত্তিক বিরোধ আরও জটিল রূপ নিতে পারে, তাই দ্রুত সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
মন্তব্য