খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে পৌষ ১৪৩২ | ২৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ক্ষোভ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে ধানের শীষের টিকিট দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) কালীগঞ্জ শহরের সোনালী ব্যাংকের পেছনে সাকিব হোসেন নামের এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী নাকে খত দিয়ে দল ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
সাকিব হোসেন পেশায় একজন নিরাপত্তা কর্মী হলেও দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তিনি জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে বর্তমানে তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন, যারা বিগত বছরগুলোতে দলের দুর্দিনে এবং রাজপথের আন্দোলনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। অথচ কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের উপেক্ষা করে এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, যাকে কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষ চেনে না। সাকিবের মতে, রাশেদ খান এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং বিএনপির আদর্শের সাথেও তাঁর দীর্ঘদিনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তৃণমূলের এই ক্ষোভ কেবল সাকিব হোসেনের একার নয়, বরং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাকিবের অভিযোগ, দলের হাইকমান্ড ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে একজন ‘বহিরাগত’ প্রার্থীকে চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এলেও রাশেদ খানকে স্থানীয় জনগণ ভোট দেবে না। এই অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি প্রকাশ্যে নাকে খত দিয়ে আজীবনের জন্য বিএনপির রাজনীতি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
| বিষয়বস্তু | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আসন | ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার আংশিক) |
| মনোনীত প্রার্থী | রাশেদ খান (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ) |
| প্রতিবাদের ধরণ | প্রকাশ্যে নাকে খত দিয়ে দল ত্যাগের ঘোষণা |
| প্রতিবাদকারী | সাকিব হোসেন (সক্রিয় কর্মী, উপজেলা বিএনপি) |
| মূল অভিযোগ | ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন ও বহিরাগত প্রার্থী নির্বাচন |
| তৃণমূলের দাবি | মনোনয়ন পরিবর্তন করে স্থানীয় পরীক্ষিত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া |
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস রহমান মিঠু এ প্রসঙ্গে বলেন, কালীগঞ্জ ও সদরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বর্তমানে চরম হতাশা ও ক্ষোভের মধ্যে নিমজ্জিত। দলের দুর্দিনের কাণ্ডারিরা যখন বঞ্চিত হন, তখন সাধারণ ভোটারদের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি মনে করেন, সাকিবের এই নাকে খত দেওয়ার ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি হাজারো নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর হৃদয়ের রক্তক্ষরণের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষ তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা নেতৃত্বকেই সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়।
বর্তমানে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সাকিব হোসেনের মতো তৃণমূলের কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এখনো সময় আছে এই আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করার। যদি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাদের মূল্যায়ন না করে তবে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে পড়বে। এই ঘটনার পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের হিসাব-নিকাশও বদলে যেতে শুরু করেছে, যা আগামী নির্বাচনে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।