খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন ঝাউচর বউ বাজার এলাকা থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী বেন কিউ হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের ‘অজেয়-৪’ ইউনিটের একটি চৌকস দল তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে হাজারীবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সেনাসূত্র জানায়, ঝাউচর বউ বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বেন কিউ হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ ও র্যাব একাধিকবার তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলেও প্রতিবারই সে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সেনাবাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তাদের পরিচালিত আরেকটি অভিযানে বেন কিউ হৃদয়ের ব্যবহৃত একটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে সে তখন আত্মগোপনে চলে যায়। সর্বশেষ অভিযানে গ্রেফতারকৃত বেন কিউ হৃদয়ের কাছ থেকে আবার একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে হাজারীবাগ থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
সেনাসূত্র আরও জানিয়েছে, বেন কিউ হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে ঝাউচর, হাজারীবাগ ও কয়ঘাট এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। সে একাধিক অপরাধী চক্রের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং তার সহযোগী গ্রুপগুলো এখনও ওই এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
হাজারীবাগ থানার এসআই আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, “শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী একজনকে গ্রেফতার করেছে। রোববার দুপুরে একটি দেশীয় অস্ত্রসহ তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নিচের টেবিলে অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | বেন কিউ হৃদয় |
| অভিযানকারী ইউনিট | ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড ‘অজেয়-৪’ |
| অভিযান স্থান | ঝাউচর বউ বাজার, হাজারীবাগ, ঢাকা |
| গ্রেফতারের সময় | ২৭ ডিসেম্বর, রাত ১১:৩০ |
| হস্তান্তর সময় | ২৮ ডিসেম্বর, দুপুর |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | দেশীয় অস্ত্র |
| পূর্ববর্তী অভিযান | বেন কিউ হৃদয়ের ব্যবহৃত স্থানে তল্লাশি, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার |
এই গ্রেফতারের মাধ্যমে রাজধানীর ঝাউচর, হাজারীবাগ ও কয়ঘাট এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা আশা করা যাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অপরাধী চক্র ভাঙতে এবং এলাকায় নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।