খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে পৌষ ১৪৩২ | ৩০ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে। ক্লাবটির সাবেক পুষ্টিবিদ ইতসিয়ার গনসালেস রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানি ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আটটি উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই স্বনামধন্য স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞকে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ বরখাস্ত করেছিল। তবে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তিনি এখন ক্লাবের চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি বিভাগের অন্ধকার দিকগুলো সামনে নিয়ে এসেছেন এবং এর প্রতিকার হিসেবে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেছেন।
বিশ্বকাপ জয়ী নেপথ্য কারিগর থেকে রিয়ালে পদার্পণ
ইতসিয়ার গনসালেস সাধারণ কোনো পুষ্টিবিদ নন। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের নেপথ্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য বলে মনে করা হয়। তিনি আর্জেন্টিনার চারজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পুষ্টিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সফল তত্ত্বাবধানের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | জাতীয় দল | ইতসিয়ারের ভূমিকার প্রভাব |
|---|---|---|
| মার্কোস আকুনিয়া | আর্জেন্টিনা | ইনজুরি পরবর্তী পুনর্বাসন ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। |
| গিদো রদ্রিগেস | আর্জেন্টিনা | ফিটনেস লেভেল ও পুষ্টি নিয়ন্ত্রণ। |
| হেরমান পেসেলা | আর্জেন্টিনা | বিশ্বকাপের সময় স্ট্যামিনা ব্যবস্থাপনা। |
| পাপু গোমেজ | আর্জেন্টিনা | রিকভারি ও ডায়েট চার্ট সমন্বয়। |
আর্জেন্টাইন তারকাদের শারীরিক উন্নতিতে তাঁর এই ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণেই ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে উচ্চাশা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ।
রিয়াল মাদ্রিদে ‘শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশ’ ও হেনস্তার বর্ণনা
স্পেনের প্রভাবশালী দৈনিক ‘মার্কা’কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ইতসিয়ার অভিযোগ করেন যে, রিয়ালের মেডিকেল ও ফিজিওথেরাপি বিভাগ শুরু থেকেই তাঁর কাজে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল। যদিও ক্লাবের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা বিভাগের নিম্নস্তরের কর্মকর্তাদের আচরণ ছিল চূড়ান্ত অপেশাদার।
তাঁর অভিযোগের প্রধান দিকগুলো হলো:
১. পেশাগত বাধা: তিনি দানি কারভাহাল ও রদ্রিগোর মতো তারকাদের ডায়েট ও ইনজুরি নিয়ে কাজ করতে গেলে মেডিকেল স্টাফরা তাঁকে উপহাস করতেন।
২. উসকানি: খেলোয়াড়দের তাঁর দেওয়া বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা না মানতে প্ররোচিত করা হতো।
৩. হুমকি ও মানসিক চাপ: তাঁকে বলা হতো, “কিছু বদলাবেন না, নইলে চাকরি হারাবেন।” এমনকি তাঁকে সভাপতি পেরেজের কাছে ‘পাগল’ হিসেবে প্রমাণ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
চুরির মিথ্যা অপবাদ ও মানসিক আঘাত
ইতসিয়ারের করা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো তাঁর বিরুদ্ধে আনা একটি পরিকল্পিত মিথ্যা মামলা। মেডিকেল সার্ভিসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তিনি নাকি ক্লাবের ‘সাপ্লিমেন্টের একটি আস্ত চালান’ চুরি করেছেন। এই বানোয়াট অভিযোগের কারণে তিনি সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সামনে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। তিনি জানান, এই ঘটনার পর থেকে তিনি এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, প্রতিটি নির্দেশনার লিখিত প্রমাণ রাখা শুরু করেন। আজও তিনি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন এবং এই অধ্যায়টি ভুলে যেতে চান।
দাবি কেবলই একটি ‘ক্ষমা’
আদালতের শরণাপন্ন হলেও ইতসিয়ার গনসালেস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা অর্থের বিনিময়ে আপস করতে চান না। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলো সত্যটি সবার সামনে আনা। তিনি চান সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং খেলোয়াড়রা জানুক যে তাঁর সাথে কী অন্যায় করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে একটি প্রকাশ্য ‘ক্ষমা প্রার্থনা’র দাবি জানিয়েছেন যেন তাঁর পেশাগত সম্মান পুনরুদ্ধার হয়। রিয়াল মাদ্রিদ এখনও এই আইনি লড়াই ও গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।