খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায় থেকে এক জরুরি বিবৃতি প্রদান করা হয়। সেখানে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে সারা দেশে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে সংগঠনটি। এই আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন অস্পষ্ট ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে একজন জুলাই যোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করেছেন। পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, মাহদী হাসান শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আনুষ্ঠানিকভাবে হুমকি প্রদান করেছেন এবং বর্তমানে চলমান নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ছাত্র নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে উল্টো জেলা পুলিশ সুপার এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির অবিলম্বে অপসারণ ও প্রত্যাহার দাবি করেছেন। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের একজন সক্রিয় কর্মীকে এভাবে গ্রেপ্তার করা বর্তমান প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।
ঘটনাপ্রবাহ ও উত্তেজনার মূল কারণসমূহ
| তারিখ ও সময় | ঘটনার বিবরণ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) | শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সাথে মাহদীর বাগ্বিতণ্ডা। | ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। |
| ৩ জানুয়ারি (সন্ধ্যা ৭:৩০) | পুলিশ কর্তৃক মাহদী হাসান গ্রেপ্তার। | বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। |
| ৩ জানুয়ারি (রাত ৯:০০) | বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আল্টিমেটাম। | এক ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির দাবি। |
| দাবিকৃত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | এসপি ও ওসির প্রত্যাহার দাবি। | সারা দেশে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি। |
| মামলার প্রাথমিক ভিত্তি | সরকারি কাজে বাধা ও হুমকিমূলক বক্তব্য। | তদন্তাধীন প্রক্রিয়া। |
উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেখানে ওসির কক্ষে বসে কথা বলার সময় মাহদী হাসান উত্তেজিত হয়ে নিজেকে আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত ও হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। তবে মাহদী পরবর্তীতে দাবি করেছিলেন, তার বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং পরিস্থিতির চাপে তিনি ওমন শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে শত শত ছাত্র-জনতা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বক্তারা বলছেন, জুলাই আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের এভাবে হঠকারিতার শিকার হতে দেওয়া হবে না। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি অতিদ্রুত মাহদী হাসানকে মুক্তি না দেয়, তবে এই আন্দোলন কেবল হবিগঞ্জে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সারা দেশের রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো মাহদীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।