খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির শিকার হয়ে আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জোবায়ের হোসেন পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বারিধারা এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপ্পু এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
র্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ডিসেম্বর আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া তাঁর আত্মীয় রাকিবুল ইসলামের বাসায় বেড়াতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যান। এরপর ৩১ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি আত্মীয়ের ব্যবসায়িক অংশীদার মোতালেব মিয়ার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ওই গাড়ির সামান্য ধাক্কা লাগলে মোটরসাইকেল আরোহী পাপ্পু ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে নাঈমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলাকালে অন্য কয়েকটি মোটরসাইকেলে থাকা একদল যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে নাঈমকে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনে এবং জনসমক্ষে বেধড়ক মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ধারাবাহিকতা ও আসামির তথ্যাদি নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তির পরিচয় | নাঈম কিবরিয়া (পেশায় আইনজীবী)। |
| ঘটনাস্থল | বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা। |
| ঘটনার সময় | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকা। |
| প্রধান আসামি | জোবায়ের হোসেন পাপ্পু (গ্রেপ্তারকৃত)। |
| হত্যাকাণ্ডের কারণ | মোটরসাইকেলের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে মব জাস্টিস। |
| থানা ও মামলা | ভাটারা থানা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। |
| বর্তমান অবস্থা | আসামি গ্রেপ্তার ও দোষ স্বীকার; তদন্ত চলমান। |
এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে আইনি অঙ্গন। গতকাল পুরান ঢাকার ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন আইনজীবী সমাজ’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন আইনজীবীকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপথে পিটিয়ে হত্যা করা আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভাটারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই হামলায় অংশ নেওয়া আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পাপ্পুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের ‘মব’ বা গণপিটুনির ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার এবং যেকোনো বিরোধের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।