খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে পৌষ ১৪৩২ | ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্র করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর কিংবা অসত্য সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আদালত প্রশাসন। এ ধরনের সংবাদ ভবিষ্যতে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে আইন অনুযায়ী আদালত অবমাননার দায় বহন করতে হবে—এমন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (আজ) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি একই দিনে সুপ্রিম কোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম ছিল—
‘গণমাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক সংবাদ প্রচার প্রসঙ্গে।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন কিছু সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়—জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ায় আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ছুটিতে গেছেন এবং বেঞ্চ না দেওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন। এসব তথ্য টেলিভিশনের স্ক্রলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব সংবাদ সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুল তথ্য দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। শুধু তাই নয়, আদালত সম্পর্কিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।
সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সাময়িকভাবে বিচারকার্যে অংশ নিতে পারছেন না। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
| বিষয় | প্রকৃত তথ্য | গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য |
|---|---|---|
| আপিল বিভাগের বিচারপতি | মায়ের অসুস্থতার কারণে ছুটি | জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের প্রতিবাদ |
| হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি | অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি | বেঞ্চ না পাওয়ার অভিযোগ |
| আদালতের অবস্থান | তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান | অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ |
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়া ফোকাল পারসন অথবা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। অন্যথায়, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে আইনানুগভাবে বহন করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট আশা প্রকাশ করেছে, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণমাধ্যম আদালতের মর্যাদা রক্ষায় আরও সচেতন ভূমিকা পালন করবে।