খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে নতুন নেতৃত্ব আসতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে নিজের কূটনৈতিক মিশন শুরু করবেন। তাঁর এই যোগদানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রস্তুতিমূলক বৈঠক চলছে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন বাংলাদেশ তার ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় পার করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রিস্টেনসেনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করতে হবে।
নিচে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ও শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| পুরো নাম | ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন |
| পূর্ববর্তী পদ | রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর (ঢাকা মিশন, ২০১৯-২১) |
| নিযুক্তির অনুমোদন | ডিসেম্বর ২০২৫ (মার্কিন সিনেট কর্তৃক) |
| স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন | পিটার হাসের (সপ্তদশ মার্কিন রাষ্ট্রদূত) |
| পেশাগত অভিজ্ঞতা | রিয়াদ, ম্যানিলা, হো চি মিন সিটি ও সান সালভাদর মিশন |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক, পরিসংখ্যানে মাস্টার্স |
| ভাষাগত দক্ষতা | স্প্যানিশ, জার্মান, ভিয়েতনামি, জাপানি ও পর্তুগিজ |
| কৌশলগত দক্ষতা | স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা |
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। গত ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেটের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বাংলাদেশে পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা তাঁর জন্য বড় সম্মানের বিষয়। উল্লেখ্য, তিনি ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। পিটার হাসের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ট্রেসি অ্যান্ড জ্যাকবসন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
অক্টোবর মাসে মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গুরুত্ব নিয়ে দূরদর্শী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে আছে। আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের অবসান ঘটেছে এবং নতুন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ পা বাড়িয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তীতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যে অর্থনৈতিক কূটনীতিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অপরিহার্য অংশীজন। তিনি বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসার প্রসার, বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক ঝুঁকির বিষয়েও তিনি বাংলাদেশ সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা পোষণ করেন।