খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
১৯৭৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল সেই চিরচেনা গান ‘আয় খুকু আয়’, যা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠের সঙ্গে নতুন মুখ শ্রাবন্তী মজুমদার-এর কণ্ঠ মিশে বাংলা সংগীতপিপাসুর হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেয়। এই গানটি ধীরে ধীরে দুই বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছেছে, বাংলাদেশেও পরে ‘দ্য ফাদার’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। ২০২৬ সালে গানটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসুম অপু হোয়াটসঅ্যাপে শ্রাবন্তীর সঙ্গে আড্ডা দিলেন।
আইরিশ সাগরের ছোট্ট দ্বীপ আইল অব ম্যান থেকে ফোনে ভেসে এল শ্রাবন্তীর মিষ্টি কণ্ঠ, “হ্যালো, শ্রাবন্তী বলছি…বাংলাদেশ থেকে ফোন করেছেন? দারুণ লাগছে!”। আজকের দিনে তার কণ্ঠ শুধু একটি নাম নয়, এটি এক নস্টালজিয়ার প্রতীক। তিনি বিজ্ঞাপনে যেমন বোরোলিন, হেয়ার অয়েল গেয়েছেন, তেমনই প্রতিটি পণ্যের ট্যাগলাইন শ্রাবন্তীর কণ্ঠে হয়ে উঠত প্রাণবন্ত।
গানের সৃষ্টিকথা জানালেন শ্রাবন্তী: “পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় গানটির কথা লিখেছিলেন, সুর করেছিলেন ভি বালসারা। অনেকে মনে করেন এটি হেমন্তদার গান, কিন্তু এটি আমার অ্যালবামের জন্য তৈরি হয়েছিল। একবার গানটি পড়ে চোখে জল চলে এল। আমি হেমন্তদারের সঙ্গে গাইতে চাইছিলাম, তিনি তখন সম্মতি দিয়েছেন।”
গানটি প্রথমে খুব বাজত না। শ্রাবন্তীর ভাষায়, “প্রকাশের দুই বছর পরও মানুষ গানটি শুনতে চাইত না। পরে মঞ্চে একাই গাইতে শুরু করলাম। ধীরে ধীরে দেখলাম সবাই শুধু ‘আয় খুকু আয়’-ই শুনতে চাইছে।”
শ্রাবন্তীর কণ্ঠ প্রথাভাঙা ছিল। শাস্ত্রীয় সংগীতের পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি আধুনিক বাংলা গান ও ইংরেজি পপের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। জিঙ্গেল গাওয়া শুরু করে তাঁর কণ্ঠের স্বতন্ত্রতা প্রমাণিত হয়।
২৫ বছর আগে তিনি কলকাতা ছেড়ে আইল অব ম্যান-এ স্থায়ী হন। ছোট্ট দ্বীপে সাংস্কৃতিক কর্মচঞ্চলতা যথেষ্ট, তবে কলকাতা ও ঢাকার মানুষের প্রতি নস্টালজিয়া এখনও আছে। শ্রাবন্তী বলেন, “আমি প্রথমত বাঙালি, দ্বিতীয়তও বাঙালি…সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছি বাংলা মাধ্যমে।”
বাংলাদেশের শিল্পীদের সঙ্গে তার স্মৃতি, বিশেষ করে ফেরদৌসী রহমান, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর-এর সঙ্গে অভিজ্ঞতা, আজও জীবন্ত। চট্টগ্রামে গান গাওয়ার স্মৃতি এখনো চোখে-মনে জ্বলজ্বল করে।
নিচের টেবিলে শ্রাবন্তী মজুমদার-এর উল্লেখযোগ্য কাজ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| শ্রাবন্তীর কাজ | বিবরণ |
|---|---|
| আয় খুকু আয় | হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথ রেকর্ডিং, ১৯৭৬ |
| তুমি আমার মা…আমি তোমার মেয়ে | পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রেকর্ড |
| নাম বোলো না | ল্যান্ডফোন টেলিফোনের ক্রিং ক্রিং শব্দে শুরু, ভূপিন্দর সিং-এর সঙ্গে |
| ফোক ও আধুনিক গানের ফিউশন | ফকির আলমগীর, আলী যাকেরের সঙ্গে বহু অনুষ্ঠান ও অ্যালবামে |
শ্রাবন্তী আজও বাংলা সংগীতের জীবন্ত প্রতীক। তার কণ্ঠের আবেগ, নস্টালজিয়া ও প্রথাভঙ্গা পথপ্রদর্শক হয়ে বাঙালি হৃদয়ে বেঁচে আছে। ৫০ বছরেও ‘আয় খুকু আয়’-এর সুর ও স্নেহময় বার্তা অম্লান।